Tuesday, March 3, 2026
Home Blog Page 8

নতুন নোটে আসছে যেসব পরিবর্তন

0

শিগগিরই দেশের বাজারে আসছে নতুন নকশার টাকার নোট।  নতুন নকশার টাকায় কোনো কোনো ব্যক্তির ছবি থাকবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।  জানা গেছে, নতুন নোটে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক, প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতীকগুলোকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।  সব নোটে রয়েছে নতুন গভর্নর আহসান হাবিব মনসুরের স্বাক্ষর।

জানা গেছে, প্রথম ধাপে ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোট বাজারে ছাড়া হবে, যা পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই আগামী ২ অথবা ৩ জুন সাধারণ মানুষ হাতে পাবে।  পর্যায়ক্রমে অন্য মূল্যমানের নোটও বাজারে আসবে।  নোটগুলো বাজারে ছাড়ার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দেখানো হবে।

জানা গেছে, ১০০ টাকার নতুন নোটে এক পাশে রয়েছে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ ও জাতীয় প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জলছবি।  অপর পাশে দেখা যাবে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ‘সুন্দরবন’, যেখানে রয়েছে এক ঝাঁক হরিণ ও একটি বাঘের ছবি।  সাদা অংশে বাঘের জলছবি সংযুক্ত করা হয়েছে।

নতুন ২০০ টাকার নোটে হালকা হলুদ রঙে দেখা যাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য। অপর পাশে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি—মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের ধর্মীয় পোশাক ও উপাসনালয়সহ উপস্থাপিত হয়েছে। মাঝখানে সবুজের মধ্যে রয়েছে দেশের মানচিত্র।

নতুন ৫০০ টাকার নোটে একপাশে স্থান পেয়েছে জাতীয় চেতনায় অনন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। অপর পাশে রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ছবি।

১০০০ টাকা মূল্যমানের নোটে এক পাশে রয়েছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। অপর পাশে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন

সার্বভৌমত্ব ও করিডোর ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থানে সেনাবাহিনী

0

করিডোর স্পর্শকাতর বিষয়, দেশের সার্বভৌম ক্ষুণ্ন হয় এমন বিষয় হলে তা প্রতিহত করা হবে। সোমবার (২৬ মে) সেনা সদরে এক ব্রিফিংয়ে এমনটা জানিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনী জানায়, সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েন নেই, দেশের স্বার্থে সেনাবাহিনী আপসহীন। কেএনএফের ৩০ হাজার ইউনিফর্ম বানানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। গত একমাসে কেএনএফের ১ হাজার ৯৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১৪ হাজারের বেশি কেএনএফ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ৪ হাজারের বেশি মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর। সরকারের নির্দেশনা মেনেই কাজ করা হচ্ছে। সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্য নেই। গত ৫ আগস্টের পর থেকে সেনাবাহিনী দেশের স্বার্থে সবার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

সেনাবাহিনী জানায়, সীমান্তে পুশইন কোনোভাবে কাম্য নয়, সেনাবাহিনী যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন হলে সরকারের নির্দেশনায় যুক্ত হবে। তবে এখনো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এছাড়াও মব তৈরির বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ব্রিফিংয়ে বলা হয়, কেউ মব তৈরি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সেনাবাহিনী তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

সংস্কারে বাধা এলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করব: হাসনাত

0

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, সরকার সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। সংস্কারকাজে সচিবালয়সহ কেউ বাধা তৈরি করলে তা সহ্য করা হবে না। দেশের মানুষকে নিয়ে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

সোমবার (২৬ মে) সকালে চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেইট বিপ্লব উদ্যানে পথসভা কর্মসূচির আগে এমন হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

হাসনাত বলেন, ৫ আগস্টের আগে এনবিআর, কাস্টমসসহ নানা সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। সেসব প্রতিষ্ঠানে সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকার সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। এতে সচিবালয়সহ কেউ বাধা তৈরি করলে তা সহ্য করা হবে না। সংস্কার কাজে বাধা এলে দেশের মানুষকে নিয়ে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

দলের পথসভা কর্মসূচির দ্বিতীয়দিন ধারাবাহিকভাবে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারী, ফটিকছড়িসহ নানা উপজেলায় পথসভা করবে এনসিপি।

রাইদা বাস কেনাবেচার লেনদেন নিয়ে বিরোধ, খুন হন আনোয়ার: পুলিশ

0

রাজধানীর তুরাগ এলাকায় রাইদা বাস ডিপোর মালিক আনোয়ার হোসেন সিকদার হত্যার চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির তুরাগ থানা পুলিশ। তারা হলেন- মো. সবুজ ফকির (২৮), কালাম (২২) ও মো. শাকিল (১৮)। গ্রেপ্তারকৃতদের দেয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশ  এর আগে রোববার (২৫ মে) আশুলিয়া ও দিয়াবাড়ি এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে,  রাইদা বাস ক্রয়-বিক্রয়ের লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কয়েকজন সহযোগী মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আনোয়ার হোসেন সিকদারকে রাইদা বাস ডিপোর ভিতরে হত্যা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ডিসি (উত্তরা বিভাগ) মো. মহিদুল ইসলাম জানান, তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ি মেট্রো গোলচত্ত্বর এলাকায় অবস্থিত রাইদা বাস ডিপোর মালিক আনোয়ার হোসেন সিকদার (৫৩) গত ১৭ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে বাসা থেকে রাইদা ডিপোর উদ্দেশে বের হন। ঐদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বাসায় ফিরে না আসায় এবং ফোন রিসিভ না করায় তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু তাকে কোথাও না পেয়ে পরদিন ১৮ জানুয়ারি তুরাগ থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন আনোয়ারের স্ত্রী শিউলি আক্তার। 

তিনি আরও জানান, জিডির প্রাথমিক তদন্তকালে তথ্য পাওয়া যায়, ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে আনোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সম্ভাব্য হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়। অতঃপর রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে আশুলিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কালাম ও শাকিলকে গ্রেপ্তার করে তুরাগ থানা পুলিশ। পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুরাগ থানা পুলিশ দিয়াবাড়ী মেট্রো গোলচত্ত্বরের ডেসকো অফিসের পূর্ব পাশে রাইদা ডিপোর ভিতরের উত্তর পাশের টিনের বেড়া সংলগ্ন মাটির নিচ থেকে আনোয়ারের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে আনোয়ারের মৃতদেহ শনাক্ত করেন। পরে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ভিকটিম আনোয়ারের স্ত্রী শিউলি আক্তার বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃতরাসহ আরও ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় রোববার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

ডিসি মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা সবাই রাইদা বাসের চালক। গত ১৭ জানুয়ারি সকাল ১১টার দিকে রাইদা বাস ক্রয়-বিক্রয়ের লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তারা ও তাদের কয়েকজন সহযোগী মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আনোয়ার হোসেন সিকদারকে রাইদা বাস ডিপোর ভিতরে হত্যা করেন। তারা প্রথমে ভিকটিমের মাথায় লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করেন এবং পরে গলায় ধারালো ছুরি দ্বারা আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যার পর তারা লাশ গুম ও প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশে নিহত আনোয়ারের মৃতদেহ বাস ডিপোর উত্তর পাশে টিনের বেড়ার কাছে মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিলেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আর্জেন্টিনায় সিনেমা চলার সময়ই ধসে পড়ল হলের ছাদ

0

আর্জেন্টিনার লা প্লাটার সিনেমা ওচো হলে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর সময় একটি অবিশ্বাস্য দুর্ঘটনা ঘটেছে— মুভি ‘ফাইনাল ডেস্টিনেশন: ব্লাডলাইনস’ দেখার সময় দর্শকদের মাথার ওপরেই ধসে পড়েছে সিনেমা হলের ছাদ! এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এ তথ্য জানায়।

 গত সোমবার (১৯ মে) স্থানীয় সময় রাত ৯টায় সিনেমা ওচোতে মুভির স্ক্রিনিং চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে। ছাদের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে ২৯ বছর বয়সী ফিয়াম্মা ভিলাভের্দের ওপর, যিনি তার ১১ বছরের কন্যা ও এক বন্ধুর সাথে সিনেমা দেখছিলেন।

ফিয়াম্মা ভিলাভের্দে বলেন, ‘প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম এটি মুভিরই অংশ, কিন্তু পরে একটি বড় টুকরো আমার উপর পড়ে!’

ধ্বংসস্তূপ তার কাঁধ, পিঠ, হাঁটু ও গোড়ালিতে আঘাত করে। মাথায় খানিকটা আঘাত পাওয়ার কারণে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তার শরীরে কালো দাগ শনাক্ত করে।

এমন আঘাত পাওয়ার পর ফিয়াম্মা বর্তমানে সাইকিয়াট্রিক চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং ভিড়ের জায়গায় যেতে ভয় পান। তিনি সিনেমা হলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার পরিকল্পনা করেছেন, কারণ চোটের কারণে তাকে কয়েক দিন কর্মস্থলে জেতে নিষেধ করেছে কর্তব্যরত চিকিৎসক।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাদ ধসের ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, সিনেমা হলের মেঝে জুড়ে ছাদের টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এছাড়াও ওই সময় দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যদিও বড় ধরনের প্রাণহানি রিপোর্ট হয়নি।

সিনেমা হল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়া হয়নি। উল্লেখ্য, ‘ফাইনাল ডেস্টিনেশন’ মুভিটির সিরিজগুলো বেশ পরিচিত অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর নাটকীয় দৃশ্য জন্য, যেখানে চরিত্রগুলো দুর্ঘটনায় মারা যায়। সিনেমা হলে আসল জীবনেই এমন দুর্ঘটনা ঘটায় দর্শকরা হতবাক।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ঘোষণা করলো মাল্টা

0

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের দ্বীপ রাষ্ট্র মাল্টা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী রবার্ট অ্যাবেলা এই ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (২৬ মে) এক প্রতিবেদনে দেশটির সংবাদমাধ্যম মাল্টা টাইমস এ তথ্য জানায়।

মাল্টার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট অ্যাবেলা ঘোষণা করেছেন, তার দেশ আগামী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।

গাজায় চলমান ব্যাপক সংঘাত সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাল্টা মানবিক ট্র্যাজেডির দিকে চোখ বন্ধ করে রাখতে পারে না।

তিনি বলেন, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ মে) ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ডাক্তার পরিবারের বেঁচে যাওয়া সদস্যদের আশ্রয় দিতে মাল্টা প্রস্তুত।

গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি অনুযায়ী, হামলায় আল-নাজ্জারের স্বামী ও বেঁচে যাওয়া ১১ বছর বয়সী এক ছেলে গুরুতর আহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ মে) খান ইউনিসে আল-নাজ্জার পরিবারের বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আল-নাজ্জারের দশ সন্তানের মধ্যে ৯ জনই নিহত হয়েছে।

এই নয় শিশুর দেহ উদ্ধার করা হয় দুই ডাক্তার হামদি আল-নাজ্জার এবং তার স্ত্রী আলা আল-নাজ্জারের বাড়ি থেকে। 

প্রধানমন্ত্রী রবার্ট অ্যাবেলা বলেন, ‘মাল্টা আল-নাজ্জার এবং তার স্ত্রী আলা আল-নাজ্জারের পরিবারকে আশ্রয় দিতে প্রস্তুত এবং তাদের নিজেদের পরিবারের মতোই বিবেচনা করবে।

আমরা জুতা-টি-শার্ট নয়, ট্যাংক তৈরি করতে চাই: ট্রাম্পের ঘোষণা

0

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার শুল্কনীতি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাংক, যুদ্ধসরঞ্জাম ও উচ্চপ্রযুক্তি পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, টি-শার্ট বা জুতা তৈরির জন্য নয়।  

রোববার (২৫ মে) নিউ জার্সিতে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি তার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের গত ২৯ এপ্রিল করা মন্তব্যের সঙ্গে একমত।

সেদিন অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সটাইল শিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণ জরুরি নয়। তার দেশের অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যের পর টেক্সটাইল খাতের সংগঠন ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অব টেক্সটাইল অর্গানাইজেশনস’ বেসেন্টের তীব্র সমালোচনা করেন।

এই বিষয় নিয়ে ট্রাম্প বলেন, সত্যিই আমি চাই না টি-শার্ট বা মোজা বানাই। এগুলো অন্য দেশে বানানো সম্ভব। বরং সামরিক সরঞ্জাম, ট্যাংক, জাহাজ, চিপস, কম্পিউটার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি আমাদের দেশেই বানানো হোক।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, বড় পরিসরে শক্তিশালী উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করাই তার অর্থনৈতিক কৌশলের মূল উদ্দেশ্য। এতে যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষাখাতে আত্মনির্ভরশীল হবে।

সম্প্রতি বাণিজ্যনীতি নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার (২৩ মে) তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।  

অ্যাপলকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা আইফোনের ওপরও ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হতে পারে।

১ জুন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর এই নতুন শুল্ক কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার এই অবস্থান বিশ্ববাজারে নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে

“পিএসএল জয়ে রিশাদ–সাকিবদের দল পেল কত টাকা, বাকিরা কী পেলেন?”

0

ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, আশপাশে উল্লাসে মেতে উঠেছেন তাঁর সতীর্থরা। ২০২৫ পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) চ্যাম্পিয়ন হিসেবে লাহোরের জন্য স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে এটি। তবে ট্রফির বাইরেও প্রাপ্তি থাকে। থাকে অর্থযোগ। শুধু চ্যাম্পিয়ন নয়, ফাইনালে হারা রানার্সআপ দলও পায় ট্রফি আর টাকা।

এ ছাড়া টুর্নামেন্টসেরা, ফাইনালসেরা, সেরা ব্যাটসম্যান, সেরা বোলার, সেরা ফিল্ডারসহ আরও নানা পুরস্কার তো থাকেই। গত রাতে পিএসএলের দশম আসর শেষেও এমন নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন অনেকেই। পেয়েছেন অর্থকড়ি।

ফাইনালে কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সকে ৬ উইকেটে হারানো রিশাদ–সাকিব–মিরাজের দল লাহোর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পেয়েছে ১৪ কোটি পাকিস্তানি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ কোটি ৫ লাখ টাকার কাছাকাছি। আর মার্কিন ডলারে ৫ লাখ। রানার্সআপ হওয়া কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্স পেয়েছে ২ লাখ মার্কিন ডলার বা ৫ কোটি ৬০ লাখ পাকিস্তানি রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২ কোটি ৪১ লাখ টাকার বেশি।

এবারের পিএসএলে টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন হাসান নেওয়াজ। কোয়েটায় খেলা এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান রান করেছেন ৩৯৯। টুর্নামেন্টসেরা হিসেবে পেয়েছেন ৩০ লাখ পাকিস্তানি রুপি। এর পাশাপাশি আরেকটি পুরস্কারও পেয়েছেন নেওয়াজ—একটি বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বিওয়াইডি সিল।

টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটসম্যানের পুরস্কার হিসেবে ৩৫ লাখ পাকিস্তানি রুপিও পেয়েছেন নেওয়াজ। এ ছাড়া ৩৫ লাখ রুপি করে অর্থ পুরস্কার পেয়েছেন শাহিন আফ্রিদি (সেরা বোলার), আবদুস সামাদ (সেরা ফিল্ডার), সিকান্দার রাজা (সেরা অলরাউন্ডার), মোহাম্মদ হারিস (সেরা উইকেটকিপার) এবং মোহাম্মদ নাঈম (সেরা উদীয়মান)।

ফাইনালে কোয়েটার ২০১ রান তাড়ায় লাহোরের হয়ে ৩১ বলে ৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন কুশল পেরেরা। যে ইনিংসের জন্য ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি পেয়েছেন এই শ্রীলঙ্কান।

“হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক মায়ের কাছে পৌঁছায় সন্তানদের সাতটি মরদেহ”

0

ফিলিস্তিনি চিকিৎসক আলা আল-নাজ্জার শুক্রবার সকালে দক্ষিণ গাজার নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন। তাঁর ১০ সন্তানের সবাই বাড়িতেই ছিল।

কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালে তাঁর সাত সন্তানের মরদেহ এসে পৌঁছায়। তাদের বেশির ভাগেরই শরীর ছিল দগ্ধ।

গাজা সিভিল ডিফেন্স বলেছে, নাজ্জারের বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তাঁর ৯ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পরপরই তাঁর সাত সন্তানের মরদেহ হাসপাতালে আনা হলেও দুজনের মরদেহ শনিবার সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে ছিল। নিহত শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বড়টির বয়স ১২ বছর। আর সবচেয়ে ছোটটির বয়স সাত মাস।

ওই হামলায় নাজ্জারের শুধু একটি সন্তান প্রাণে বেঁচে যায়। তবে সে–ও গুরুতর আহত হয়েছে। হামলায় নাজ্জারের স্বামীও মারাত্মক রকমের আহত হয়েছেন। তিনিও একজন চিকিৎসক।

আলা আল-নাজ্জারের পারিবারিক বাড়িটির অবস্থান গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসের একটি আবাসিক এলাকায়। গাজা সিভিল ডিফেন্স ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, বাড়িটিতে ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিএনএনের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা সিএনএনকে বলেছে, খান ইউনিস এলাকায় আইডিএফ সেনাদের নিকটবর্তী স্থাপনায় তৎপরতা চালানো কয়েকজন সন্দেহভাজনকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও বলেছে, তারা বেসামরিক প্রাণহানির অভিযোগটি খতিয়ে দেখছে।

গাজা সিভিল ডিফেন্স হামলাস্থলের একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায়, চিকিৎসাকর্মীরা একজন আহত ব্যক্তিকে স্ট্রেচারে তুলছেন। আর অন্য উদ্ধারকর্মীরা আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়িটির আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। তাঁরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে একে একে শিশুদের ঝলসে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে নিচ্ছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বারশ বলেন, আলা আল-নাজ্জারের স্বামী বাড়িতে ফিরেই বিমান হামলার শিকার হন।

বারশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘তাঁদের (নাজ্জার দম্পতির) ৯ সন্তান নিহত হয়েছে—ইয়াহিয়া, রাকান, রাসলান, জিবরান, ইভ, রিভাল, সাইডেন, লুকমান ও সিদরা।’ তিনি আরও বলেন, নাজ্জারের স্বামী বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।

বারশ বলেন, ‘গাজার চিকিৎসাকর্মীদের বাস্তবতা এটাই। এই বেদনার কথা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ইসরায়েলের আগ্রাসন এতটাই নির্মম যে তা শুধু গাজার চিকিৎসাকর্মীদেরই নয়, পুরো পরিবারকেই নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে।’

নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আহমদ আল-ফারা সিএনএনকে বলেন, নিজের ৯ সন্তানকে হারানোর পরও নাজ্জার হাসপাতালে তাঁর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। হাসপাতালে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। মাঝেমধ্যে গিয়ে স্বামী ও একমাত্র জীবিত সন্তান আদমের শারীরিক অবস্থান খোঁজ নেন। আদমের বয়স ১১ বছর।

ফারা বলেন, বাবা ও ছেলেকে হাসপাতালে দুটি করে অস্ত্রোপচার করানো হয়েছে। তারা এখনো চিকিৎসাধীন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউসুফ আবু আল-রিশ বলেন, আলা আল-নাজ্জার নিজের সন্তানদের বাড়িতে রেখে দায়িত্ব পালনের জন্য বের হয়েছিলেন। তিনি সেসব অসুস্থ শিশুদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন, যাদের নাসের হাসপাতাল ছাড়া যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই।

রিশ বলেন, তিনি যখন হাসপাতালে পৌঁছান, তখন দেখেন, নাজ্জার শান্তভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর চোখ বলছিল, তিনি নিয়তিকে মেনে নিয়েছেন। নাজ্জার শুধু শান্ত স্বরে আল্লাহকে ডাকছিলেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছিলেন।

৩৮ বছর বয়সী নাজ্জার একজন শিশুবিশেষজ্ঞ। তবে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে অন্য অনেক চিকিৎসকের মতো তিনিও জরুরি বিভাগে কাজ করে যাচ্ছেন।

দিগন্তজুড়ে ১০ কিলোমিটার তালগাছ, যেন প্রকৃতির তালের সাম্রাজ্য

0

আশির দশকে সেখানে ফসলি জমি ছিল, আবাদ হতো ধানের। বেড়িবাঁধ হওয়ার পর এসব জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মালিকানায় চলে যায়। অনেক দিন ধরে থাকে পরিত্যক্ত ও অনাবাদি। পরে ফসলের ক্ষতি পোষাতে স্থানীয় লোকজন সেখানে রোপণ করেন সারি সারি তালগাছ।

বাঁধের পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শোভা পাচ্ছে শত শত তালগাছ। এসব তালগাছে ফলন হচ্ছে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে এসব গাছে শোভা পায় তাল। ‘এক পায়ে দাঁড়ানো, সব গাছ ছাড়ানো ও আকাশে উঁকি মারা’ এসব তালগাছ ও তালের ফলনে বাঁধ এলাকা যেন হয়ে উঠেছে ‘তালগাছময়’।

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার পশ্চিম বাইশপুর থেকে মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ এলাকা ঘুরে বিপুলসংখ্যক তালগাছ দেখা গেছে। শত শত তালগাছের হাতছানি ও উঁকিঝুঁকি যেন জানান দিচ্ছে এক টুকরা দৃষ্টিনন্দন ‘তালরাজ্যের’।

গত শনিবার দুপুরে বেড়িবাঁধের পশ্চিম বাইশপুর, চরমাছুয়া, গাজীপুর, আমিরাবাদ, মোহনপুরসহ অন্যান্য এলাকায় দেখা যায়, সারি সারি ছোট-বড় তালগাছে ঝুলছে সবুজ তাল। বড় বড় তালগাছ যেন আকাশে উঁকি মেরে বজ্রপাত থেকে মানুষকে বাঁচানোর প্রার্থনা জানাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তালের আঁটি কেটে বিক্রি করছেন। কেউ গাছের মাথায় ঝুলে থাকা তালের সংখ্যা গুনছেন।

পশ্চিম বাইশপুর গ্রামের দেওয়ান মো. সেলিম বলেন, বেড়িবাঁধ হওয়ার আগে এখানে ধানের আবাদ হতো। বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে। ক্ষতি পোষাতে তিনি বাঁধের পাশে ১০টি তালগাছ লাগান। এখন ফলন হচ্ছে। পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে কিছু বিক্রি করে আয়ও হচ্ছে। আশপাশের লোকজনও তালগাছ লাগাতে উৎসাহী। ফলন থেকে অনেকেই আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

গাজীপুর এলাকার মো. ওবায়েদ উল্লাহ বলেন, পশ্চিম বাইশপুর থেকে মোহনপুর পর্যন্ত হাজারের বেশি ছোট-বড় তালগাছ আছে। নতুন করে আরও গাছ লাগানো হচ্ছে। বজ্রপাতও এই এলাকায় কম।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন এবং মতলব উত্তরের ইউএনও মাহমুদা কুলসুম বলেন, বাঁধ এলাকায় এত তালগাছ থাকার বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও বেশি করে তালগাছ রোপণে উদ্বুদ্ধ করছে।