Tuesday, March 3, 2026
Home Blog Page 7

চীনে ড্রোন প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন বাংলাদেশিরা

0

ঢাকা: বাংলাদেশিদের জন্য ড্রোন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে চীন। এই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আগ্রহীদের আবেদনের আহ্বান জানিয়েছে চীনা দূতাবাস।

মঙ্গলবার (২৭ মে) ঢাকার চীনা দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে একটি চীনা দলের দ্বারা পরিচালিত একটি ড্রোন প্রদর্শনী সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির এই উদ্ভাবনী মিশ্রণ ছিল বাংলা নববর্ষ এবং চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উভয়েরই একটি প্রাণবন্ত উদযাপন। চীনা দূতাবাস ও বাংলাদেশের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য চীনের ক্রোস্টারস ইনোভেশন কালচার অ্যান্ড ট্যুরিজম টেকনোলজি গ্রুপ বাংলাদেশি কারিগরি কর্মীদের জন্য একটি বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রদান করবে। প্রশিক্ষণটি ইংরেজিতে পরিচালিত হবে। আগামী জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত সাংহাইতে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রোগ্রামটি দুটি পর্যায়ে বিভক্ত
প্রথম পর্যায়: ড্রোন তৈরির পারফরম্যান্সের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক জ্ঞান ও প্রোগ্রামিং দক্ষতা কভার করে কোর্স। (১-২ সপ্তাহ)। দ্বিতীয় পর্যায়: ক্রোস্টারসের মালিকানাধীন ড্রোন মডেলগুলোর জন্য বিশেষভাবে প্রোগ্রামিংয়ের ওপর উন্নত কোর্স। (১-২ সপ্তাহ)। প্রতিটি পর্যায়ের সঠিক সময়কাল অংশগ্রহণকারীদের বিদ্যমান কম্পিউটার সাক্ষরতা ও প্রোগ্রামিং অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করবে। প্রশিক্ষণে নিবন্ধনের জন্য আগামী ১ জুনের মধ্যে ই-মেইলে (dirfa@shilpakala.gov.bd) আবেদনের আহ্বান জানিয়েছে।

ঈদুল আজহা কবে—চাঁদ দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছে আরব বিশ্ব

0

পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে আরব বিশ্বসহ মুসলিম প্রধান দেশগুলো। মঙ্গলবার (২৭ মে) সন্ধ্যায় হিজরি বর্ষের শেষ মাসের চাঁদ দেখার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

জ্যোতির্বিদরা ধারণা করছেন, টেলিস্কোপ ব্যবহারের মাধ্যমে মধ্য এবং পশ্চিম এশিয়া থেকে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যেতে পারে। এছাড়া আফ্রিকা এবং ইউরোপের কিছু অংশ থেকে জিলহজের চাঁদ দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে আমেরিকান বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খালি চোখেই চাঁদ দেখা যাবে। 

এদিকে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ কেন্দ্রের আল-খাতম জ্যোতির্বিদ পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে, জিলহজের মাসের নতুন চাঁদ সৃষ্টি হয়েছে। যেটি সূর্য থেকে ১২ ডিগ্রি দূরত্বে অবস্থান করছে এবং নতুন চাঁদটি ১৮ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে। ফলে আজ সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার সম্ভবনা রয়েছে। 

সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টও পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার আহ্বান জানিয়েছে। ‘কেউ খালি চোখে অথবা দূরবীনের মাধ্যমে চাঁদ দেখলে তাকে নিকটস্থ কোর্টে অবহিত করতে বলা হয়েছে। কেউ সরাসরি কোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে চাঁদ দেখার তথ্য জানানোর আহ্বানও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

জিলহজ হিজরি সনের ১২তম মাস। এ মাসেই পবিত্র হজ এবং কুরবানী পালিত হয়। পবিত্র হজ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মুসল্লি ইতোমধ্যে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে জড়ো হয়েছেন। 

বার্সেলোনার নতুন চুক্তিতে ইয়ামালের জন্য কী সুবিধা থাকছে?

0

দিন যতই গড়াচ্ছে, লামিনে ইয়ামাল নিজেকে আরও ভালো ফুটবলারে পরিণত করছেন। তাই তাঁর দিকে আরও বেশি ক্লাবের নজর পড়ছে।

তবে ইয়ামাল গত ডিসেম্বর থেকে বলে আসছেন, তিনি বার্সেলোনাতেই থাকতে চান। বার্সাও নানা সময়ে ইঙ্গিত দিয়েছে, ইয়ামালকে তারা ছাড়তে চায় না। এমনিতেই ইয়ামালের সঙ্গে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি আছে বার্সার। দুই পক্ষের বন্ধনটা অটুট রাখতে এবার চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানো হচ্ছে।

স্পেনের দুই ক্রীড়া দৈনিক মুন্দো দেপোর্তিভো ও দিয়ারিও স্পোর্ত বলছে, বার্সার সঙ্গে ২০৩১ সাল পর্যন্ত চুক্তি করতে যাচ্ছেন ইয়ামাল। সব ঠিক থাকলে আজই চুক্তিপত্রে সই করতে পারেন এই বিস্ময় বালক।

সংবাদমাধ্যম দুটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বার্সেলোনার তোরে মেলিনা হোটেলে ইয়ামালের এজেন্ট জর্জ মেন্দেসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ক্লাব সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা এবং ক্রীড়া পরিচালক ডেকো। আলোচনা বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে এবং বেশির ভাগ বিষয়ে দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। চুক্তি হলে ইয়ামালই হবেন ক্লাবটির সর্বোচ্চ বেতনের ফুটবলার।

বার্সার খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি বেতন পান রবার্ট লেভানডফস্কি। পোলিশ এই স্ট্রাইকার ক্লাব থেকে সপ্তাহে ৬ লাখ ৪০ হাজার ৯৬২ ইউরো (৮ কোটি ৯০ লাখ ২৩ হাজার টাকা) পান। বর্তমানে ইয়ামালের সাপ্তাহিক বেতন ৬৪ হাজার ৩৮ ইউরো (৮৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা)।

আগামী ১৩ জুলাই ১৮ বছর পূর্ণ হবে ইয়ামালের। এরপর এমনিতেই বেতন বাড়ত তাঁর। তবে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হলে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করেই বেতন দেওয়া হবে।

বার্সার হয়ে ২০২৪–২৫ মৌসুম দুর্দান্ত কেটেছে ইয়ামালের। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছেন ১৮ গোল, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ২৫টি। এর চেয়েও বড় ব্যাপার মাঠে তাঁর প্রভাব। এই মৌসুমে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের নাভিশ্বাস তুলে ছেড়েছেন। বেশ কয়েকটি চোখধাঁধানো গোল করেছেন, যার কয়েকটি ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।

ইয়ামালের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে মুন্দো দেপোর্তিভো ও দিয়ারিও স্পোর্ত জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বার্সার সঙ্গে নতুন চুক্তি করার কথা ছিল ইয়ামালের। তবে তা আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তিনি ব্যালন ডি’অর জিততে পারলে মোটা অঙ্কের বোনাস পাবেন।  

তবে ইয়ামালের রিলিজ ক্লজ কত হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষ এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। মূল চুক্তিতে এটি ১০০ কোটি ইউরো (১৩ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন তা আবার পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচ সামনে রেখে ইয়ামাল কয়েক দিনের মধ্যেই জাতীয় দল স্পেনে যোগ দেবেন। এরপর লম্বা ছুটিতে যাবেন। তাই বার্সার চাওয়া যত দ্রুত সম্ভব, ইয়ামালের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শেষ করা।

তা ছাড়া বার্সা কর্তৃপক্ষের ধারণা, ইয়ামালের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে চুক্তি করতে গিয়ে নানা রকম জটিলতায় পড়তে হতে পারে। ক্লাবটি তাই সব ধরনের ঝুটঝামেলা এড়িয়ে যেতে চায়।

বার্সেলোনার কোচ হিসেবে নিজের প্রথম মৌসুমেই ক্লাবকে তিনটি ট্রফি (লা লিগা, কোপা দেল রে, স্প্যানিশ সুপার কাপ) এনে দিয়েছেন হান্সি ফ্লিক। তাঁর সার্বিক কাজ নিয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ বেশ সন্তুষ্ট |
কোচ হওয়ার সময় ক্লাব সভাপতি লাপোর্তাকে ফ্লিক যে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের পরিকল্পনা জমা দিয়েছিলেন, তাতে সম্মুখ সারিতেই ছিলেন ইয়ামাল। এখন তো ইয়ামালকে ছাড়া একাদশ কল্পনাই করা যায় না। তরুণ উইঙ্গারকে তাই যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে চাইছে বার্সা।

ভয়াবহ দৃশ্য: গাড়ির মধ্যে ৬ জন মৃত, বাইরে থাকা ব্যক্তি বললেন ‘আমারও সময় শেষ’

0

ভারতের হরিয়ানায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে একই পরিবারের ছয় সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৬ মে) রাতে পঞ্চকুলায় একটি পার্ক করা গাড়িতে তিন শিশুসহ ছয়জনের মরদেহ পাওয়া যায়। তারা সবাই বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে মঙ্গলবার (২৭ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারের সপ্তম সদস্য গাড়ির বাইরে বসেছিলেন এবং বলছিলেন, পরবর্তী পাঁচ মিনিটের মধ্যে তিনিও মারা যাবেন! অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে পরিবারটি ঋণগ্রস্ত ছিল।

মৃতরা হলেন, প্রবীণ মিত্তল (৪২), তার বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং দুই মেয়ে ও এক ছেলে।


একটি বাড়ির বাইরে পার্ক করা গাড়িটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দেয়। পরে গাড়ির ভেতরে মৃতদেহ দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান এবং পুলিশকে খবর দেন।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে ৪২ বছর বয়সী প্রবীণ মিত্তল এবং তাদের পরিবার পঞ্চকুলার একটি অনুষ্ঠান থেকে দেরাদুনের বাড়িতে ফিরছিলেন বলে জানা গেছে। তারা বাগেশ্বর ধামে একটি আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা বিষ পানে আত্মহত্যা করেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা রাতে হাঁটাহাঁটি করার সময় গাড়ির পেছনে উত্তরাখণ্ডের নম্বর প্লেট লাগানো একটি গাড়ি পার্কিং করতে দেখেন। প্রবীণ মিত্তল নামে একজন ব্যক্তি গাড়ির পাশে ফুটপাতে বসে ছিলেন।


স্থানীয় ওই বাসিন্দা জানান, তিনি এবং তার ভাই লোকটির কাছে গিয়ে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি জানান, পরিবারটি বাগেশ্বর ধাম থেকে ফিরছিল। যেহেতু তারা কোনো হোটেল খুঁজে পায়নি, তাই গাড়িতেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তাকে গাড়িটি বাজার এলাকায় সরিয়ে নিতে বলেন ওই বাসিন্দা।

লোকটি গাড়িটি সরাতে ভেতরে উঠার সময় স্থানীয় লোকটির মনে সন্দেহ হয় এবং তিনি ভেতরে উঁকি দিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখেন। ছয়টি মৃতদেহ পড়ে আছে এবং গাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আরও বলেন, ‘আমি ছয় জনকে শুয়ে থাকতে দেখেছি। তারা একে অপরের গায়ে বমি করেছিল। গাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। আমি লোকটিকে টেনে সরিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ব্যাপার কী? তারপর তিনি জানালেন, পরিবারটি আত্মহত্যা করেছে এবং তিনিও পাঁচ মিনিটের মধ্যে মারা যাবেন। লোকটি দাবি করেছিলেন, বিশাল ঋণের বোঝায় ডুবে আছেন।’

পরিবারের সদস্যদেরকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। স্থানীয়রা জানান, অ্যাম্বুলেন্স সময়মতো পৌঁছালে লোকটিকে বাঁচানো যেত।

পুলিশ একটি সুইসাইড নোট পায়, যার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে যে, পরিবারটি বড় ঋণ এবং আর্থিক সংকটের মধ্যে ছিল।

ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রপ্তানিনির্ভর বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে মাতারবাড়ী উন্নয়নের তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার

0

মাতারবাড়ীকে দেশের বৃহত্তম বন্দর, সরবরাহ, উৎপাদন, জ্বালানি কেন্দ্র বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষন করতে তাগিদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (২৭ মে) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ (এমআইডিআই) এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমরা মাতারবাড়ীকে দেশের বৃহত্তম বন্দর, সরবরাহ, উৎপাদন এবং জ্বালানির কেন্দ্র হিসেবে কল্পনা করি। এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের জন্য, আমাদের অবশ্যই উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হবে।

তিনি এই খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন এবং এই ধরনের বিনিয়োগ সহজতর করার জন্য একটি মাস্টার প্ল্যানের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।

প্রধান উপদেষ্টা সড়ক পরিবহন ও নৌপরিবহন সচিবদের মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ অঞ্চলকে দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযুক্ত রাস্তা নির্মাণ ত্বরান্বিত করার এবং বৃহৎ সমুদ্রগামী কন্টেইনার জাহাজগুলোকে ধারণ করতে সক্ষম টার্মিনাল তৈরির নির্দেশ দেন।

তিনি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোতে শ্রমিকদের প্রত্যাশিত আগমনকে সমর্থন করার জন্য একটি পরিকল্পিত শহর নির্মাণসহ এলাকার নগর উন্নয়নের গুরুত্বের উপরও জোর দেন।

অধ্যাপক ইউনূস ঘোষণা করেছেন, ২৮ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া তার আড়াই দিনের জাপান সফরে এমআইডিআই অঞ্চলের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।

৩০ মে টোকিওতে অনুষ্ঠিত ৩০তম নিক্কেই ফিউচার অব এশিয়া সম্মেলনে যোগদান এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করার কথা রয়েছে, যার লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর জন্য তহবিল নিশ্চিত করা।

বৈঠকে এমআইডিআই অঞ্চলের মধ্যে জাপানের দ্বিতীয় একচেটিয়া জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ইচ্ছাও প্রকাশ করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার হলো প্রথম জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান। এটি এরইমধ্যে উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে।

এছাড়াও সৌদি আরবের পেট্রোকেমিক্যাল জায়ান্ট আরামকো, আবুধাবি পোর্টস, সৌদি আরবের বন্দর অপারেটর রেড সি গেটওয়ে, জাপানি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী জেরা এবং মালয়েশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি পেট্রোনাস-সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি এই অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ঢাকা সম্প্রতি মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের জন্য জাপানি সংস্থা পেন্টা-ওশান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড এবং টিওএ কর্পোরেশনের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) দ্বারা সমর্থিত এই প্রকল্পটি এমআইডিআই উদ্যোগের একটি ভিত্তিপ্রস্তর এবং এই অঞ্চলের সংযোগ এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমআইডিআই উদ্যোগটি মহেশখালী-মাতারবাড়ি অঞ্চলকে একটি কৌশলগত অর্থনৈতিক করিডোরে রূপান্তরিত করার জন্য বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে একটি সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার প্রতিনিধিত্ব করে, যা সরবরাহ, জ্বালানি এবং শিল্প উন্নয়নকে একীভূত করে।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব মো. সিরাজ উদ্দিন মিয়ার সভাপতিত্বে এবং এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ, সড়ক পরিবহন, নৌপরিবহন, জ্বালানি, বিদ্যুৎ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ (এমআইডিআই) সেলের মহাপরিচালক সারওয়ার আলম চলমান প্রকল্পগুলোর একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন।

আল–আকসায় সংঘর্ষ: ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে উগ্র ইসরায়েলিদের হামলা

0

জেরুজালেমে গতকাল সোমবার কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলিরা পবিত্র আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণ ও জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) কার্যালয়ে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে ঢুকে পড়েন। জেরুজালেম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মিছিল থেকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানকার ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালানো হয়।

জেরুজালেমের পুরোনো শহরের অলিগলি ও মুসলিম–অধ্যুষিত এলাকার ভেতর দিয়ে মিছিল করার সময় কিছু ইসরায়েলি ‘আরবদের মৃত্যু হোক’ ও ‘তোমাদের গ্রাম জ্বলে যাক’ বলে স্লোগান দেন।

আল–জাজিরার সংবাদদাতা নিদা ইব্রাহিম বলেন, এই মিছিলের লক্ষ্য হলো শহরের ওপর ইসরায়েলি আধিপত্য জাহির করা। তিনি বলেন, বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, জেরুজালেমের পুরোনো শহরের ভেতরে ইসরায়েলি নাগরিকেরা ফিলিস্তিনিদের দোকানে হামলা চালাচ্ছেন এবং তাঁদের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারছেন।

১৯৬৭ সালে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে। তখন থেকে শহরটি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিবছর ইসরায়েলে ২৬ মে জেরুজালেম দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করা হয়, যা একটি বার্ষিক ছুটির দিন। এই দিনের স্মরণে প্রতিবছর একটি মিছিল বের করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে আগেভাগেই শত শত সশস্ত্র পুলিশ ও সীমান্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। কারণ, ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা নিয়মিত মুসলিম–অধ্যুষিত এলাকার দোকানপাট ও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, নিপীড়ন ও হয়রানি করে থাকেন।

বসতি স্থাপনকারীরা অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের বিভিন্ন বসতি ও ফাঁড়িতে বসবাস করেন, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ।

গতকালও একদল ইসরায়েলি তরুণ ফিলিস্তিনি দোকানদার, পথচারী, স্কুলগামী শিশু, এমনকি ইসরায়েলি মানবাধিকারকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে বিবাদে জড়ান। তাঁরা লোকজনের গায়ে থুতু ছিটান, গালাগাল করেন ও জোরপূর্বক ঘরে ঢোকার চেষ্টা চালান। তাঁদের অনেকের হাতেই এ সময় ইসরায়েলি পতাকা ছিল।

ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির একজন সাংবাদাতা জানান, এ সময় পুলিশ অন্তত দুই যুবককে আটক করেছে।

মিছিলকারীদের একটি ছোট দল পূর্ব জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএর একটি কার্যালয়য়ের প্রাঙ্গণেও ঢুকে পড়ে। এ দলে একজন ইসরায়েলি সংসদ সদস্যও ছিলেন।

ইসরায়েল ইউএনআরডব্লিউএকে দেশটি ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিষিদ্ধ করেছে। এর ফলে গাজা উপত্যকায় সংস্থাটির ৭০ বছরের বেশি সময় ধরে চলা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ইউএনআরডব্লিউএর পশ্চিম তীরের সমন্বয়কারী রোলান্ড ফ্রিডরিশ বলেন, ডজনখানেক ইসরায়েলি মিছিলকারী ইসরায়েলি পুলিশের সামনেই মূল ফটক বেয়ে ওই প্রাঙ্গণে ঢোকেন। তাঁদের মধ্যে ইউলিয়া মালিনোভস্কিও ছিলেন। তিনি ইউএনআরডব্লিউএকে নিষিদ্ধ করা একটি আইনের অন্যতম প্রণেতা।

গত বছর একই মিছিলে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইসরায়েলিরা পুরোনো জেরুজালেমে এক ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

আর চার বছর আগে একই মিছিল গাজায় ১১ দিনের একটি যুদ্ধের কারণ হয়েছিল।

গতকাল সকালে ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অন্যান্য রাজনীতিবিদসহ দুই হাজারের বেশি ইসরায়েলি পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় আগ্রাসীভাবে ঢুকে পড়েন।

বেন-গভির তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টে আল–আকসা প্রাঙ্গণ থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের বিজয়, সব জিম্মির মুক্তি ও নবনিযুক্ত শিন বেতপ্রধান মেজর জেনারেল ডেভিড জিনির সাফল্যের প্রার্থনা করছি।’ এর আগেও সশস্ত্র পুলিশের সহায়তায় বেন-গভির আল–আকসা প্রাঙ্গণে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছিলেন।

আল–জাজিরার সংবাদদাতা নিদা ইব্রাহিম বলেন, এই মিছিলের লক্ষ্য হলো শহরের ওপর ইসরায়েলি আধিপত্য জাহির করা। তিনি বলেন, বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, জেরুজালেমের পুরোনো শহরের ভেতরে ইসরায়েলি নাগরিকেরা ফিলিস্তিনিদের দোকানে হামলা চালাচ্ছেন এবং তাঁদের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারছেন।

জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে বিচারিক হত্যার অভিযোগ তুললেন ডা. শফিক

0

মিথ্যা সাক্ষীর মাধ্যমে এতদিন জামায়াত নেতৃবৃন্দের ওপর ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ চালানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২৭ মে) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, এ টি এম আজহারুল ইসলামের ওপর আনা সকল মিথ্যা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘদিন ধরে সুবিচারের অপেক্ষায় থাকার পর অবশেষে মুক্ত হলেন তিনি। এ সময়, ক্যাঙ্গারু কোর্ট জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে সাজা দিয়েছিল উল্লেখ করে বলেন, বাকিরা বেঁচে থাকলে দেশকে অনেক কিছু দিতে পারতেন।

https://googleads.g.doubleclick.net/pagead/ads?gdpr=0&client=ca-pub-4824217372509345&output=html&h=280&adk=2508816157&adf=587344992&pi=t.aa~a.3987509640~i.13~rp.4&w=750&abgtt=6&fwrn=4&fwrnh=100&lmt=1748328700&num_ads=1&rafmt=1&armr=3&sem=mc&pwprc=4245962070&ad_type=text_image&format=750×280&url=https%3A%2F%2Fjamuna.tv%2Fnews%2F614942&fwr=0&pra=3&rh=188&rw=750&rpe=1&resp_fmts=3&wgl=1&fa=27&uach=WyJXaW5kb3dzIiwiMTAuMC4wIiwieDg2IiwiIiwiMTI1LjAuNjQyMi4xMTIiLG51bGwsMCxudWxsLCI2NCIsW1siR29vZ2xlIENocm9tZSIsIjEyNS4wLjY0MjIuMTEyIl0sWyJDaHJvbWl1bSIsIjEyNS4wLjY0MjIuMTEyIl0sWyJOb3QuQS9CcmFuZCIsIjI0LjAuMC4wIl1dLDBd&dt=1748328699175&bpp=6&bdt=6408&idt=-M&shv=r20250521&mjsv=m202505200101&ptt=9&saldr=aa&abxe=1&cookie=ID%3D27c380621dee1078%3AT%3D1748156964%3ART%3D1748328620%3AS%3DALNI_MaEJGQH4846pbgqM_sUndfQLJO2uQ&gpic=UID%3D000010e5f24f04b1%3AT%3D1748156964%3ART%3D1748328620%3AS%3DALNI_MbO9JnPkaSv9rEHuCuAcMgogvcp-w&eo_id_str=ID%3Da5b7de6ad6782880%3AT%3D1748156964%3ART%3D1748328620%3AS%3DAA-AfjbBuoIqHSNuap0YgOD-GO6a&prev_fmts=0x0%2C1140x280&nras=3&correlator=8363595292544&frm=20&pv=1&u_tz=360&u_his=1&u_h=768&u_w=1366&u_ah=728&u_aw=1366&u_cd=24&u_sd=1&dmc=8&adx=105&ady=1034&biw=1349&bih=607&scr_x=0&scr_y=0&eid=31092114%2C95333410%2C95353386%2C95361617%2C95360954%2C95360294&oid=2&pvsid=1624047150010812&tmod=1170806733&uas=3&nvt=1&ref=https%3A%2F%2Fjamuna.tv%2F&fc=1408&brdim=0%2C0%2C0%2C0%2C1366%2C0%2C1366%2C728%2C1366%2C607&vis=1&rsz=%7C%7Cs%7C&abl=NS&fu=128&bc=31&bz=1&td=1&tdf=0&psd=W251bGwsbnVsbCwibGFiZWxfb25seV8yIiwxXQ..&nt=1&ifi=3&uci=a!3&btvi=2&fsb=1&dtd=1107

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, এই সাজা দেয়ার সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে প্রতিবাদ করার কোনও পরিবেশ ছিল না। ৭১’র হত্যাযজ্ঞের ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কারো সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি। সুখরঞ্জন বালি সেই ঘটনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পাতানো ট্রায়ালে সাজা কার্যকর করা হয়েছে। সেই সময় জামায়াত নেতৃবৃন্দের পরিবারগুলো ভেঙে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে, বিচার চলার সময় দুটি টর্চার সেল তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, একটিতে এনে ভিকটিমদের উপর নির্যাতন চালানো হতো। আরেকটি সেফ হোমে তুলে এনে জিজ্ঞাসাবাদের নামে আইন অমান্য করে নির্যাতন চালানো হতো।

এ সময়, স্বচ্ছ বিচার হলে দণ্ড দিতে পারতেন না উল্লেখ করে বলেন, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তাদের ফাঁসি ও দণ্ড দেয়া হয়। স্কাইপ কেলেঙ্কারি মাধ্যমে সেই বিচার প্রক্রিয়ার ঘটনা বিশ্ব ও দেশের মানুষের সামনে উঠে আসে।

এর আগে, আজ সকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে খালাস দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

গণভবনের ভেতরে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা: শেখ হাসিনার বিদায়ের আগের ঘটনা

0

গণ–অভ্যুত্থানের সময় গত বছরের ৫ আগস্ট সকালে গণভবনে সামরিক কর্মকর্তারা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তখন রেগে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘তাহলে তোমরা আমাকে গুলি করে মেরে ফেলো, গণভবনে কবর দিয়ে দাও।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত রোববার ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি শুনানিতে ৪ ও ৫ আগস্টের কিছু ঘটনাবলি তুলে ধরেন, যার বর্ণনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগেও উল্লেখ রয়েছে।

শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের ওই সময়ে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন জাতীয় সংসদের তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। তবে ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা এর বিরোধিতা করেন।

গত বছরের ৪ আগস্ট রাতে গণভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠক খুবই ‘উত্তেজনাপূর্ণ ও ভয়ংকর’ ছিল বলে শুনানিতে উল্লেখ করেন তাজুল ইসলাম। সেই রাতে শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী কয়েকজন মন্ত্রী ও শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। বৈঠকে রাগারাগি ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।

‘ডুবিয়েছে এবং আরও ডুবাবে’

ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, সেদিন (৪ আগস্ট) রাত ১২টা থেকে সোয়া ১২টার দিকে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয়টি তোলেন তৎকালীন প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক। এতে শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ হন এবং বলেন, যা হওয়ার হবে, তিনি ক্ষমতা ছাড়বেন না। তিনি সেনাপ্রধানকে মেরুদণ্ড শক্ত করে কঠোর হয়ে বিক্ষোভ দমনের নির্দেশ দেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যের পর তারিক আহমেদ সিদ্দিক বলেছিলেন, সেনাবাহিনী গুলি চালিয়ে কিছু লোককে মেরে ফেললে বিক্ষোভ এমনিতেই দমন হয়ে যাবে। এ সময় তারিক আহমেদ সিদ্দিক বিমানবাহিনীকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর কথা বলেন। তবে হেলিকপ্টার থেকে গুলির কথা বলায় বিমানবাহিনীর প্রধান ভীষণ রেগে যান। শেখ হাসিনার উদ্দেশে বিমানবাহিনীর প্রধান বলেন, ‘তিনি (তারিক আহমেদ সিদ্দিক) আপনাকে ডুবিয়েছে এবং আরও ডুবাবে।’

‘গ্যাং অব ফোর’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কঠোর অবস্থানে থাকার জন্য শেখ হাসিনাকে সেই রাতে (৪ আগস্ট) পরামর্শ দিয়েছিলেন ‘গ্যাং অব ফোর’। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। কোনোভাবেই নরম হওয়া যাবে না, এমন পরামর্শ তাঁরা দিয়েছিলেন।

‘আমাকে গুলি করে মেরে ফেলো’

গণভবনে ৫ আগস্ট সকালের একটি বৈঠকের কথাও শুনানিতে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বৈঠকে তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে দেখিয়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘ওরা ভালো কাজ করছে, সেনাবাহিনী পারবে না কেন?’ তখন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন বলেন, ‘পরিস্থিতি যে পর্যায় গেছে, তাতে পুলিশের পক্ষেও আর বেশি সময় এমন কঠোর অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব না।…অস্ত্র–গোলাবারুদ আর অবশিষ্ট নেই, ফোর্স টায়ার্ড (বাহিনী ক্লান্ত) হয়ে গেছে।’ এরপর সামরিক কর্মকর্তারা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওই বৈঠকের এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা রেগে যান এবং বলেন, ‘তাহলে তোমরা আমাকে গুলি করে মেরে ফেলো এবং গণভবনে কবর দিয়ে দাও।’

ওই বৈঠক থেকে সামরিক কর্মকর্তারা শেখ হাসিনাকে গণভবনের অন্য একটি কক্ষে নিয়ে যান বলে শুনানিতে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ওই কক্ষে শেখ হাসিনার কাছে সামগ্রিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হয় এবং তাঁকে পদত্যাগ করতে আবার অনুরোধ করেন সামরিক কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ডাকে ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির কারণে গণভবন অভিমুখে ঢাকার চারপাশ থেকে মিছিল আসছে।

একপর্যায়ে শেখ হাসিনাকে ছোট বোন শেখ রেহানা বোঝানোর চেষ্টা করেন বলে শুনানিতে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, শেখ রেহানা একপর্যায়ে শেখ হাসিনার পা জড়িয়ে ধরেন। কিন্তু শেখ হাসিনা রাজি (পদত্যাগে) হচ্ছিলেন না। পরে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে কথা বলেন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জয়কে সামরিক কর্মকর্তারা বলেন, প্রাণে বাঁচাতে হলে তাঁর মায়ের পদত্যাগ করা ছাড়া উপায় নেই। সময় গুরুত্বপূর্ণ। আর এখনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন জয় এবং তাঁর কথায় ক্ষমতা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন শেখ হাসিনা।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনা একটি ভাষণ রের্কড করে টেলিভিশনে প্রচারের ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। তবে সামরিক কর্মকর্তারা তাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

সময়–সংকটের কারণে শেখ হাসিনাকে গোছানোর জন্য ৪৫ মিনিট সময় দেওয়া হয় উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কারণ গণভবন অভিমুখে লাখ লাখ ছাত্র-জনতার মিছিল আসছিল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ৫ আগস্ট বেলা ১১টায় আইএসপিআর থেকে বিটিভির মহাপরিচালককে জানানো হয়, সেনাপ্রধান বেলা দুইটায় জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। অবশ্য সেনাপ্রধান বক্তব্য দেন বিকেল চারটায়। সেনাপ্রধানের বক্তব্যের আগে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান।চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনা একটি ভাষণ রের্কড করে টেলিভিশনে প্রচারের ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। তবে সামরিক কর্মকর্তারা তাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ৫ আগস্ট বেলা ১১টায় আইএসপিআর থেকে বিটিভির মহাপরিচালককে জানানো হয়, সেনাপ্রধান বেলা দুইটায় জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। অবশ্য সেনাপ্রধান বক্তব্য দেন বিকেল চারটায়। সেনাপ্রধানের বক্তব্যের আগে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান।

অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর ক্রমেই বাড়ছে চাপ

0

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী, রাজনীতিক, এমনকি সামরিক বাহিনীর দিক থেকেও একের পর এক দাবি ও প্রতিবাদের মুখে পড়েছে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এই সরকার।

সোমবার (২৬ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই এই সরকার এক অস্থির বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

রয়টার্স জানায়, সোমবার (২৫ মে) দেশটির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন। তারা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। টানা তিনদিন ধরে তারা বিক্ষোভ করে আসছেন।

কারণ, সরকার রোববার একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে, যার ফলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া ছাড়াই সরকারি কর্মচারীদের বরখাস্ত করতে পারবে। কর্মচারীদের ভাষায়, এটি একটি ‘দমনমূলক’ উদ্যোগ।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের ঘোষণায় রাজস্ব কর্মকর্তারাও প্রতিবাদে নামে। তাদের আন্দোলনের মুখে সরকার শেষ পর্যন্ত সে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও অনিশ্চয়তা ঘনিয়ে এসেছে। ছাত্র আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর গত বছরের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তার সরকার নানা মহলের চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট সময়সূচি না থাকায় অসন্তোষ বাড়ছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত নির্বাচন ও সংস্কারের পরস্পরবিরোধী দাবির মাঝে পড়ে গেছে। ড. ইউনূস জানিয়েছেন, নির্বাচন ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে, কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চলতি বছরের ডিসেম্বরেই জাতীয় নির্বাচন চাচ্ছে।

এ পরিস্থিতির মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও ঘনীভূত হয় যখন ছাত্রনেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক শীর্ষ নেতা দাবি করেন— রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার ও নির্বাচনকালীন সময়সূচি নিয়ে একমত হতে না পারলে ইউনূস পদত্যাগ করতে পারেন।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, ইউনূস এখনই সরে দাঁড়াচ্ছেন না। তিনি বলেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ না করা পর্যন্ত কোথাও যাচ্ছি না।

অপরদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের পাশাপাশি সেনাবাহিনী থেকেও স্পষ্ট বার্তা এসেছে। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান সম্প্রতি এক বক্তব্যে চলতি বছরের ডিসেম্বরেই নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন, যা অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত সময়সীমার (২০২৬ সালের জুন) সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এই সংকট মোকাবিলায় ইউনূস তার উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকেন এবং বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি, ছাত্রনেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আমরা এক ধরনের যুদ্ধাবস্থার মধ্যে আছি। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর আমাদের অস্থিতিশীল করার নানা চেষ্টাও চলছে। আমাদের এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

প্রসঙ্গত, চলতি মাসেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে, যার ফলে দলটি পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরেও রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এটি এক কঠিন সময়। একদিকে দ্রুত নির্বাচনের দাবি, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার কার্যক্রম—এই দুই চাপের মাঝখানে পড়ে সরকারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বে প্রশাসনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত কেন

0

গত ২০ মে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশের তিন বাহিনীর সঙ্গে রুদ্ধদার বৈঠক করেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

এই বৈঠক এমন এক সময় হয়েছে যখন ঢাকায় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তীব্রতর হচ্ছে বলে সরকারের একাধিক কর্মকর্তা আল–জাজিরাকে জানিয়েছে।

এ ঘটনাকে দেশের সামাজিক ও মূলধারার গণমাধ্যমে অন্তর্বর্তী প্রশাসন এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে একধরনের ‘স্নায়ু যুদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এই টানাপোড়েন এখন ইউনূসের ভূমিকার ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলেছে। 

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছেড়ে ভারত পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তার বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনা সংঘটনের অভিযোগ উঠেছে।

ইউনূস পদত্যাগ করার কথা ভাবছেন—এমন গুজব ছড়ানোর মধ্যে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে গতকাল শনিবার উপদেষ্টা পরিষদের আরেক বৈঠকের পর পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা আমাদের সঙ্গেই আছেন, তিনি পদত্যাগের কথা বলেননি, অন্য উপদেষ্টারাও আছেন, আমরা আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছি।’ তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ অচলাবস্থা এখনো কাটেনি।

সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনার কারণ কী

শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার দেশের বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। পুলিশ বাহিনী দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকে, বহু থানায় পুলিশ সদস্যরা অনুপস্থিত থাকেন ও জনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। এ অবস্থায় সেনাবাহিনী মোতায়েন অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। যদিও গত আগস্টের মাঝামাঝি পুলিশ আবার কার্যক্রম শুরু করেছে, তারপরও দেশে চলমান অস্থিরতার কারণে বেসামরিক-সামরিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখা হয়েছে।

গত বুধবার সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান খোলাখুলি আহ্বান জানিয়ে বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, সেনাবাহিনীকে দীর্ঘ সময় ধরে বেসামরিক কাজে নিয়োজিত রাখলে তা দেশের প্রতিরক্ষা দুর্বল করতে পারে।

সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। এটি শুধু একটি নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই সম্ভব, অনির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের মাধ্যমে সম্ভব নয়।’ 

সেনাপ্রধানের মন্তব্যে এ ভিন্নমতের ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে তিনি ইউনূস প্রশাসনের ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। অন্তর্বর্তী প্রশাসন বলেছে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝির আগে কোনো নির্বাচন নয়। কেননা, প্রথমে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সংস্কারের জন্য সময় দরকার, যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও কি অন্তর্বর্তী সরকারের উত্তেজনা রয়েছে

হ্যাঁ, উত্তেজনা রয়েছে। কারণ গত বছরের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন দিক থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে এটি। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন চায়। এক্ষেত্রে তারা অনড়। অন্যদিকে এ বছরের শুরুতে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং আরও কয়েকটি দল বলছে, যেকোনো নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে ব্যাপক সংস্কার ও গত বছরের ছাত্র আন্দোলনে দমন-পীড়নের ঘটনায় জড়িত সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

গতকাল মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি ও দেশের আরেকটি বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বৈঠক হয়েছে।

ড. ইউনূস কি পদত্যাগের কথা ভাবছিলেন

গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর ঘোষণা দেওয়া হয়, মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে পদত্যাগ করছেন না। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে প্রকাশ পেতে শুরু করে, ইউনূস বৃহস্পতিবার বিকেলে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন এবং টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এর আগে এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলে ব্যাপক আলোচনা।

ওই দিন সন্ধ্যায় জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতা ও সদ্য গঠিত এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ইউনূসের সঙ্গে ছিলেন আরও দুই ছাত্র উপদেষ্টা। ইউনূসকে দায়িত্বে থেকে যাওয়ার অনুরোধ জানান নাহিদ ইসলাম।

বৈঠক শেষে নাহিদ বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেন, অধ্যাপক ইউনূস সত্যিই পদত্যাগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছিলেন।

মুহাম্মদ ইউনূস কেন পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউনূস ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপে পড়ে হয়তো পদত্যাগের কথা ভাবছিলেন।

দুজন উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় একটি পত্রিকা বলেছে, ইউনূস বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের জানান, গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক দলগুলো ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করে রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও দেশে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তর ঘটানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিভিন্ন খবরে জানা যায়, ইউনূস এমন মন্তব্য করেছেন যে তাঁর পক্ষে দায়িত্ব পালন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি নির্বাচনের জন্য চাপ বেড়েই চলেছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা খুব কম।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, (এমন পরিস্থিতিতে) যেকোনো নির্বাচন হলে তা হস্তক্ষেপ বা কারচুপির শিকার হতে পারে এবং তিনি এর দায় নিতে চান না।

পরে ইউনূস বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর সরকারি বাসভবন যমুনায় তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকের পর বিবিসি বাংলাকে দেওয়া বক্তব্যে নাহিদ নিশ্চিত করেন, ইউনূস পদত্যাগের চিন্তা করছিলেন এবং বলেন, ইউনূস নিজেকে আন্দোলন ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার কাছে ‘জিম্মি’ মনে করছেন।

ইতিমধ্যে মুহাম্মদ ইউনূসের উচ্চাভিলাষী সংস্কার কর্মসূচি হোঁচট খাচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুলিশ, বেসামরিক প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের প্রধান অঙ্গগুলো ক্রমেই বেশি অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

মুহাম্মদ ইউনূস কেন পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউনূস ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপে পড়ে হয়তো পদত্যাগের কথা ভাবছিলেন।

দুজন উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় একটি পত্রিকা বলেছে, ইউনূস বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের জানান, গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক দলগুলো ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করে রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও দেশে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তর ঘটানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিভিন্ন খবরে জানা যায়, ইউনূস এমন মন্তব্য করেছেন যে তাঁর পক্ষে দায়িত্ব পালন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি নির্বাচনের জন্য চাপ বেড়েই চলেছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা খুব কম।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, (এমন পরিস্থিতিতে) যেকোনো নির্বাচন হলে তা হস্তক্ষেপ বা কারচুপির শিকার হতে পারে এবং তিনি এর দায় নিতে চান না।

পরে ইউনূস বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁর সরকারি বাসভবন যমুনায় তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকের পর বিবিসি বাংলাকে দেওয়া বক্তব্যে নাহিদ নিশ্চিত করেন, ইউনূস পদত্যাগের চিন্তা করছিলেন এবং বলেন, ইউনূস নিজেকে আন্দোলন ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার কাছে ‘জিম্মি’ মনে করছেন।

ইতিমধ্যে মুহাম্মদ ইউনূসের উচ্চাভিলাষী সংস্কার কর্মসূচি হোঁচট খাচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুলিশ, বেসামরিক প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের প্রধান অঙ্গগুলো ক্রমেই বেশি অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা