Wednesday, March 4, 2026
Home Blog Page 21

ছাত্রদলের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

0

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের ১৬০ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৫ জুন) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ছাত্রদলের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি:

১) সভাপতি: মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ২) সিনিয়র সহ-সভাপতি: আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া ৩) সহ-সভাপতি: জহির রায়হান আহমেদ ৪) সহ-সভাপতি: এ বি এম ইজাজুল কবির রুয়েল ৫) সহ-সভাপতি: মন্জুরুল আলম রিয়াদ ৬) সহ-সভাপতি: রিয়াদ উর রহমান ৭) সহ-সভাপতি: খোরশেদ আলম সোহেল ৮) সহ-সভাপতি: শাকির আহমেদ ৯) সহ-সভাপতি: এম এম মুসা ১০) সহ-সভাপতি: এইচ এম আবু জাফর ১১) সহ-সভাপতি: শাফি ইসলাম ১২) সহ-সভাপতি: সোহেল রানা ১৩) সহ-সভাপতি: শাহজাহান শাওন ১৪) সহ-সভাপতি: তৌহিদুর রহমান আউয়াল ১৫) সহ-সভাপতি: আরিফুল ইসলাম আরিফ ১৬) সহ-সভাপতি: সজীব মজুমদার ১৭) সহ-সভাপতি: হাসান আল আরিফ ১৮) সহ-সভাপতি: নাজমুল হক ১৯) সহ-সভাপতি: লিটন এ আর খান ২০) সহ-সভাপতি: মশিউর রহমান মামুন ২১) সহ-সভাপতি: শ্রী মিঠুন কুমার দাশ ২২) সহ-সভাপতি: আবু সুফিয়ান ২৩) সহ-সভাপতি: শফিকুল ইসলাম ২৪) সহ-সভাপতি: আশিকুর রহমান ২৫) সহ-সভাপতি: মো: নিজাম উদ্দিন ২৬) সহ-সভাপতি: রেহেনা আক্তার শিরিন ২৭) সহ-সভাপতি: আনোয়ার পারভেজ ২৮) সহ-সভাপতি: ইব্রাহিম খলিল ফিরোজ ২৯) সহ-সভাপতি: সাইদ আহমেদ ৩০) সহ-সভাপতি: হাবিবুল বাশার ৩১) সহ-সভাপতি: হাফিজুর রহমান সোহান ৩২) সহ-সভাপতি: মো: জুয়েল মৃধা ৩৩) সহ-সভাপতি: মাকসুদুর রহমান সুমিত ৩৪) সহ-সভাপতি: জকির উদ্দীন আবির ৩৫) সহ-সভাপতি: মো: কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত ৩৬) সহ-সভাপতি: হাসিবুল ইসলাম সজিব ৩৭) সহ-সভাপতি: রেজোয়ানুল হক সবুজ ৩৮) সহ-সভাপতি: মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ হীরা ৩৯) সহ-সভাপতি: মো: অলিউজ্জামান সোহেল ৪০) সহ-সভাপতি: আপেল মাহমুদ ৪১) সহ-সভাপতি: মো: রানা রিয়াজ ৪২) সহ-সভাপতি: মো: জহিরুল ইসলাম দিপু পাটোয়ারী ৪৩) সাধারণ সম্পাদক: নাছির উদ্দিন নাছির ৪৪) সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: শ্যামল মালুম ৪৫) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মুমিনুল ইসলাম জিসান ৪৬) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: ফারুক হোসেন ৪৭) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মোস্তাফিজুর রহমান ৪৮) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আরিফুল ইসলাম ৪৯) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: সালেহ মো: আদনান ৫০) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মাসুদুর রহমান মাসুদ ৫১) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মওদুদ আহমেদ ৫২) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: হাসানুর রহমান হাসান ৫৩) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল ৫৪) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: এনামুল হক এনাম ৫৫) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মো: বায়োজিদ হুসাইন ৫৬) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: জি এম ফখরুল হাসান ৫৭) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক:এমরান আলী সরকার ৫৮) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: শাহরিয়ার হক শিমুল মজুমদার ৫৯) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মো: ওমর সানি ৬০) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: …. ৬১) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক:রেজোয়ান আহমেদ ৬২) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মো: সোহেল রানা (জাবি) ৬৩) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: কাউছার মাহমুদ ৬৪) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: সোহেল সরকার ৬৫) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: জুয়েল রানা ৬৬) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: কাজী শামসুল হুদা ৬৭) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আবদুল্লাহ আল মাসুদ ৬৮) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রাজিব আহমেদ ৬৯) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মহিউদ্দীন রুবেল ৭০) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রফিকুল হাসান পলাশ অয়ন ৭১) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মাহমুদুল হাসান বসুনিয়া ৭২) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: তাইজুল ইসলাম খান ৭৩) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মাহমুদুল হাসান আল মারজান ৭৪) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: খোরশেদ আলম লোকমান ৭৫) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: শাহেদ হাসান ৭৬) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: ইব্রাহিম কার্দি ৭৭) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: হায়াত মাহমুদ জুয়েল ৭৮) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: বিপ্লব শিকদার ৭৯) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: তানভীর আহমেদ তানু ৮০) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মাসুদ হোসাইন (মাসুদ রানা) ৮১) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মো: নূরে আলম ৮২) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: নাসরিন আক্তার পপি ৮৩) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মাকসুদা রিমা ৮৪) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: সানজিদা ইয়াসমিন তুলি ৮৫) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রিসালাত ইসলাম সজীব ৮৬) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: হাবিবুর রহমান হাবিব ৮৭) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মো: জসিম উদ্দীন সম্রাট ৮৮) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: এসএম হাসান মাহমুদ রিপন ৮৯) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মো: হাসনাইন নাহিয়ান সজিব ৯০) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মোকছেদুল মোমিন মিথুন ৯১) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মীর ইমরান হোসেন মিঠুন ৯২) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আল মামুন (ঢাকা কলেজ) ৯৩) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: জুলকার নাইন ৯৪) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: এস. এম.ফয়সাল ৯৫) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: তারিকুল ইসলাম তারেক ৯৬) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মো. মাসুম বিল্লাহ ৯৭) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: ফারহান মো. আরিফুর রহমান ৯৮) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আবদুল জলিল আমিনুল ৯৯) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: নকিবুল ইসলাম নকিব ১০০) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মো. আসাদুজ্জামান রিংকু ১০১) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মিয়া মো. রাসেল ১০২) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রিয়াজ আনোয়ার হোসেন (আনোয়ার হোসেন রিয়াজ) ১০৩) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: এসএম দিদারুল ইসলাম দিদার ১০৪) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: গোলাম কিবরিয়া ১০৫) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: সাইফুল আলম বাদশা ১০৬) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: এ. এস. এম.রাকিবুল ইসলাম আকাশ ১০৭) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: আল মামুন (তিতুমীর কলেজ) ১০৮) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: কবির হোসেন ফকির ১০৯) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মো. রুবেল আমিন ১১০) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মাহমুদুল হাসান ১১১) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: দেওয়ান সাইদুল ইসলাম পলাশ ১১২) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: সখিদার মো: জহুরুল ইসলাম ছনি ১১৩) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: নুরুজ্জামান রাসেল ১১৪) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মো: মিজানুর রহমান রনি ১১৫) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মেহেদী হাসান নিশান ১১৬) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন মুরাদ ১১৭) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: হুমায়ুন কবির নয়ন ১১৮) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: এম. এ. আজিজ ১১৯) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মো. মাহফুজুর রহমান খান ১২০) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মো. আরিফ শিকদার ১২১) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: বায়োজিদ মোস্তাকিন ১২২) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মাহমুদ ভূঁইয়া ১২৩) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: তাইফুর রহমান ফুয়াদ ১২৪) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: রুহুল আমিন (ঢাকা মহানগর উত্তর) ১২৫) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: আরিফ বিল্লাহ ১২৬) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: উর্মি আক্তার ভূঁইয়া ১২৭) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: ফারজানা আক্তার মিতু ১২৮) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: আছমা আক্তার নিপা ১২৯) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মাকসুদা মনি ১৩০) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক:মিজানুর রহমান দয়াল ১৩১) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মো. শামীম আকন ১৩২) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: এম এইচ রাসেল বিল্লাহ ১৩৩) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মো: মেহেদী হাসান সোহাগ ১৩৪) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: হাফিজুর রহমান সালমান ১৩৫) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মো: হাবীবুর রহমান (বাঙলা কলেজ) ১৩৬) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মো: শামীম শেখ ১৩৭) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: নাইমুল হোসেন রোমান ১৩৮) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: কামরুল হুদা লুইস ১৩৯) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: আব্দুল হান্নান ফরহাদ ১৪০) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: রাকিব উদ্দিন রুমেল ১৪১) দপ্তর সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) ১৪২) সহ-দপ্তর সম্পাদক:…. ১৪৩) সহ-দপ্তর সম্পাদক:….. ১৪৪) প্রচার সম্পাদক: শরীফ প্রধান শুভ (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) ১৪৫) সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক: মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স ১৪৬) তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক: মাহমুদ ইসলাম কাজল ১৪৭) সমাজ সেবা সম্পাদক: মো: মাহাফুজুর রহমান ১৪৮) ক্রীড়া সম্পাদক: বুরহান উদ্দিন খান সৈকত ১৪৯) আইন সম্পাদক: মো: সাজ্জাদ হোসেন সবুজ (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) ১৫০) সহ-আইন সম্পাদক: এইচ এম জাহিদুল ইসলাম ১৫১) সহ-আইন সম্পাদক: জয়নাল আবেদীন পলাশ ১৫২) সহ-আইন সম্পাদক: মো. আল আমিন ১৫৩) সহ-আইন সম্পাদক: মোt রফিকুল ইসলাম হিমেল ১৫৪) যোগাযোগ সম্পাদক: আরিফুল হাসান আরিফ ১৫৫) পাঠাগার সম্পাদক: মো: তৌহিদুল ইসলাম ১৫৬) ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক: জান্নাতুল ফেরদৌস নাসরিন ১৫৭) সহ-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক: সুলতানা আক্তার মীম ১৫৮) শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক: সাদিকা তামান্না রেমি ১৫৯) সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক: আহমেদ কামরান রাশেদ ১৬০) সহ-সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক: মোস্তাছিম বিল্লাহ অপু।

উল্লেখ্য, গত পহেলা মার্চ বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি গঠিত হয়। কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাকিবুল ইসলামকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীন নাসিরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটির সভাপতি করা হয় গণেশ চন্দ্র রায় এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় নাহিদুজ্জামান শিপনকে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষারে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে কমিটিতে আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়াকে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, শ্যামল মালুমকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আমানউল্লাহ আমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক, মো. জাহাঙ্গীর আলমকে দপ্তর সম্পাদক এবং শরিফ প্রধান শুভকে প্রচার সম্পাদক করা হয়। ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে মাসুম বিল্লাহকে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, আনিসুর রহমান খন্দকার অনিককে সহসভাপতি, নাছির উদ্দীন শাওনকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, শামীম আক্তারকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নূরে আলম ভুইয়া ইমনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।

বিএনপি সুষ্ঠু ভোটের কথা বললে আমার খুব হাসি পায় : শেখ হাসিনা

0

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি এখন সুষ্ঠু ভোটের কথা বলে। এটা তারা কোন মুখে বলে? মানুষের ভোটের অধিকার তো জিয়াউর রহমানই হরণ করেছে। আমার খুব হাসি পায়, যখন দেখি বিএনপি ভোটের কথা উচ্চারণ করে, নির্বাচনের কথা বলে।’

প্রধানমন্ত্রী আজ শনিবার (১৫ জুন) গণভবনে কৃষক লীগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৪ সালে কৃত্রিমভাবে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ওই সময় নগদ টাকায় কেনা খাদ্যও কিন্তু আসতে দেওয়া হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এটা করা হয়েছিল। সেটাতেও যখন সফল হয়নি, তারপরই তো ১৫ আগস্ট ঘটাল। এখনও কিছু লোকের সেই চেষ্টা আছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করে সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা মানুষের ভাগ্য নিয়েও ছিনিমিনি খেলেছে। একইসঙ্গে তারা এদেশের গণতান্ত্রিক ধারাটাও নষ্ট করেছিল। জিয়াউর রহমান হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমে অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করেন। পরে ক্ষমতার মসনদে বসে দল গঠন করেন।’

‘জিয়ারই পদাঙ্ক অনুসণ করে এরশাদও এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কৃষকদের আরও বেশি করে ফসল ফলানোর আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদার কথা চিন্তা করে আমরা কৃষিতে ভর্তুকি দেই। আমাদের জনসংখ্যা বেশি। কাজেই আমাদের খাদ্য উৎপাদনে জোর দিতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্রাজিল

0

গতকাল বুধবার (১২ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ফ্লোরিডার ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। কোপা আমেরিকা শুরুর আগে এটাই ছিল ব্রাজিলের শেষ প্রীতি ম্যাচ। সেলেসাওদের হয়ে গোল করেন রদ্রিগো।

ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইউনুস মুসার দূরপাল্লার শট বারে লেগে প্রতিহত হওয়ায় হতাশ হতে হয় স্বাগতিকদের। অবশ্য শুরুর কয়েক মিনিট তেমন কোনো আক্রমণ করতে না পারলেও গোল পেতে সময় লাগেনি ব্রাজিলের। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে রদ্রিগোর গোলে এগিয়ে যায় সেলেসাওরা।

রাফিনিয়ার পাস থেকে বাঁ পায়ের নিচু শটে গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার। অবশ্য লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি ব্রাজিল। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে দারুন এক ফ্রি-কিক থেকে দলকে সমতায় ফেরান ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক। এরপর প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আক্রমণ করলেও গোলের দেখা পায়নি কেউ। ১-১ সমতায় নিয়েই বিরতিতে যায় দুদল।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে ব্রাজিল। ৫৩তম মিনিটে সুযোগ পেয়েছিলেন রদ্রিগো। তবে, এবারও ভাগ্য সহায় হয়নি সেলেসাওদের। ৬৭তম মিনিটে নিশ্চিত গোল পেয়ে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে, পুলিসিকের শট ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। এরপর আরও বেশকটি আক্রমণ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের গোলক্ষক ম্যাট টার্নারের কাছে পরাস্ত হতে হয় ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে। শেষমেশ ১-১ গোলে সন্তুষ্ট থেকে মাঠ ছাড়তে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

কোপায় নিজেদের দশম শিরোপা জেতার লক্ষ্য ব্রাজিলের। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ হারেনি সেলেসাওরা। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামার আগে এই ম্যাচে জয় না পেলেও ফুরফুরে মেজাজেই আছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

লভ্যাংশ অনুমোদন করল প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা

0

২৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সম্পন্ন করেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান দি প্রিমিয়ার ব্যাংক। শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতির মধ্য দিয়ে ডিজিটাল প্লাটফর্মে আজ বুধবার (১২ জুন) এই এজিএম অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিক্রমে ২০২৩ সমাপ্ত বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) জন্য ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সহ মোট পাঁচটি এজেন্ডা অনুমোদন হয়। অন্য এজেন্ডাগুলো হলো—আলোচিত সমাপ্ত বছরের আর্থিক বিবরণী অনুমোদন, পরিচালক ও স্বতন্ত্র পরিচালক মনোনয়ন ও নির্বাচন, নিরীক্ষক পুনর্নিয়োগ ও সম্মানি এজেন্ডা শেয়ারহোল্ডাররা অনুমোদন করেন। 

এজিএম সভার সভাপতিত্ব করেন দি প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. এইচ বি এম ইকবাল। ডিজিটাল প্লাটফর্মের এই এজিএমে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান মঈন ইকবাল, কোম্পানির পরিচালক বি এইচ হারুন, আব্দুস সালাম মুর্শেদী এমপি, শফিকুর রহমান, জামাল জি. আহমেদ, নাহিয়ান হারুন, শায়লা শেলী খান, স্বতন্ত্র পরিচালক নবগোপাল বণিক, কাইজার এ চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মোহাম্মদ আবু জাফর, কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আকরাম হোসেন সহ শেয়ারহোল্ডাররা।

ব্যাংকের গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার, বিএসইসি সহ সংশ্লিষ্ট সকলের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার জন্য এজিএমে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ডা. এইচ বি এম ইকবাল বলেন, অর্থনৈতিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে ব্যাংকের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। ২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন করে এজিএমে এমডি মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, আগামীতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

তিন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট পুত্র

0

আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় তিনটি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন। দেশটির ইতিহাসে কোনো রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার সন্তানের অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত হওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা।

হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে যে তিনটি অভিযোগ আনা হয়, তার দুটি মিথ্যা তথ্য প্রদান সংক্রান্ত। অপরটি, মাদক ব্যবহার কিংবা মাদকাসক্ত থাকা অবস্থায় নিজের অধিকারে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ।

হান্টার বাইডেন ২০১৮ সালে একটি হ্যান্ডগান কেনার সময় তার মাদক ব্যবহারের ব্যাপারে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন বলে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

ডেলাওয়ারের একটি অস্ত্রের দোকান থেকে কোল্ট কোবরা স্পেশাল রিভলবারটি কেনেন তিনি।

তবে, হান্টার বাইডেন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তার দাবি, সেই সময় তিনি মাদকাসক্তি থেকে বের হয়ে আসার পথে ছিলেন। সেই কারণে আগ্নেয়াস্ত্রের আবেদনপত্রে তিনি যা বলেছেন, সেটাই সত্যি ছিল।

ডেলাওয়ারের ১২ জন জুরি তিন ঘণ্টা আলোচনার পর দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্তে পৌঁছুতে সক্ষম হন।

প্রমাণিত অপরাধগুলোতে সর্বোচ্চ সাজা দাঁড়ায় ২৫ বছর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইডেনকে কারাভোগ করতে হতে পারে। যদিও তার সর্বোচ্চ সাজা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

বিচারক সাজা ঘোষণার জন্য কোনো দিন ধার্য করেননি। তবে, সাধারণত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে সাজা ঘোষণা করা হয়ে থাকে।

বাইডেনের আইনজীবী আবে লোয়েল বলেছেন, জোরালোভাবে সম্ভাব্য সকল আইনি পদক্ষেপ নেবেন তারা।

অভিযোগ প্রমাণের পর স্পেশাল কাউন্সেল ডেভিড ওয়েস বলেন, অভিযোগটা মাদকাসক্তি নিয়ে নয়। বরং, আসক্ত অবস্থায় “অভিযুক্তের অবৈধ তৎপরতা” নিয়ে।

কৌঁসুলিদের কথার প্রতিধ্বনি পাওয়া গেল মি. ওয়েসের কথায়।

“এই দেশে কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিজের কৃতকর্মের দায় সবাইকেই নিতে হবে, এমনকি এই বিবাদীকেও।

মঙ্গলবার মামলায় নিজের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার সময়টায় মি. বাইডেনকে সংযতই দেখা গেছে। হাত ভাজ করে সামনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। তারপর ঘুরে তার আইনজীবী দলের কয়েকজনকে জড়িয়ে ধরলেন।

আদালত মুলতবির পর স্ত্রী মেলিসাকে আলিঙ্গন করেন তিনি। তারপর, সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের প্রহরায় সেখান থেকে বের হয়ে আসেন।

এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেছেন, তিনি এই “রায়ে হতাশ”, কিন্তু, “মেলিসা, আমার পরিবার, বন্ধু এবং কমিউনিটির কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন বিগত দিনগুলোতে পেয়েছি তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ”।

বিচারের পুরো সময়টা জুড়ে বাইডেন পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য তাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন।

যদিও, রায়ের দিন মাত্র দু’জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন: স্ত্রী মেলিসা কোহেন বাইডেন এবং চাচা জেমস বাইডেন।

মার্কিন ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন রায় পড়ার কিছুক্ষণ পর এসে হাজির হন। তারপর, সৎ ছেলেকে নিয়ে সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফারদের ভিড় পার করে বেরিয়ে যান।

মঙ্গলবার ওই সময়টায় প্রেসিডেন্ট বাইডেন ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সম্মেলনে বক্তৃতা করছিলেন। সেই সম্মেলনের বিষয়বস্তু ছিল আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ।

কর্মসূচি শেষে তিনি উইলমিংটনে যান। সেখানে অবতরণের পর টারম্যাকে পুত্র, পুত্রবধূ কোহেন বাইডেন এবং নাতি বিউকে শুভেচ্ছা জানান।

রায়ের পর প্রেসিডেন্ট বলেন, মাদকাসক্তিকে পরাজিত করতে সন্তানের প্রচেষ্টায় তিনি “অত্যন্ত গর্বিত।”

“যেসব পরিবারে কেউ আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে লড়াই করছে, তারাই বুঝবেন প্রিয় মানুষটার ওই পথ থেকে ফেরার জন্য আরো শক্তিশালী ও উদ্যমী হতে দেখার অনুভূতিটা কেমন,” বলেন তিনি।

রায়ের আগে প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, দোষী সাব্যস্ত হলে ছেলেকে ক্ষমা করবেন না তিনি।

“মামলার ফলাফল যাই আসুক আমি মেনে নেবো। বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধ অক্ষুণ্ন থাকবে, হান্টার প্রয়োজনবোধে আপিল করবে।”

আজ থেকে রাজধানীর ২০ হাটে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু

0

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে জমতে শুরু করেছে কোরবানির পশুরহাট। বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) থেকে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় স্থায়ী দুটিসহ মোট ২০ পশুরহাটে আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। পশুর হাটগুলোতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কোরবানির পশু নিয়ে আসছেন খামারিরা।

দুই সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় গাবতলীর স্থায়ী হাটসহ ৯টি হাট এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় সারুলিয়া স্থায়ী পশুর হাটসহ ১১টি হাট বসেছে। তবে, এ বছর আদালতের নির্দেশনার কারণে আফতাবনগরে হাট বসবে না।

উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ বিভাগের তথ্য কর্মকর্তা পিয়াল হাসান বলেন, রাজধানীর উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবে স্থায়ী একটি ও অস্থায়ী আটটি হাট বসবে। এবার আজ থেকে ঈদের দিন সোমবার সকাল পর্যন্ত পাঁচ দিন হাট বসবে। কোরবানির পশু কেনাবেচা নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতে করা যায়, সেজন্য ঢাকা উত্তরের হাটগুলোতে সব ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে।

বাজারে ক্রেতারা কোনো নগদ অর্থ না নিয়ে এসেও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পশু ক্রয় করতে পারবে জানিয়ে পিয়াল হাসান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইনস্ট্যান্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে যে কেউ টাকার লেনদেন করতে পারবে। এজন্য হাট এলাকায় অসংখ্য ব্যাংক বুথ থাকবে।

এ ছাড়া হাটে আসা মুসলিম ক্রেতাদের ওজু ও নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাটের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার হাট ইজারাদারদের সতর্ক করা হয়েছে। কোনো বিক্রেতা যদি রাস্তায় হাট বসায়, তবে ইজাদারের জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে বলেও জানান জনসংযোগ কর্মকর্তা।

ঢাকা উত্তরে অস্থায়ী আটটি হাটের মধ্যে রয়েছে—উত্তরা দিয়াবাড়ীর ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরের পাশের খালি জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পাশের খালি জায়গা, মস্তুল চেকপোস্ট এলাকা, মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা, ভাটারার সুতিভোলা খালের কাছের খোলা জায়গা, মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট সড়কের পাশের খালি জায়গা, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদরাসা থেকে রানাভোলা স্লুইচগেট পর্যন্ত খালি জায়গা ও দক্ষিণখানের জামুন এলাকার খালি জায়গা।

এদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বলেন, সারুলিয়ায় স্থায়ী হাটসহ ডিএসসিসি এলাকার ১১ স্থানে পশুর হাট বসেছে।

মো. আবু নাছের জানান, প্রত্যেকটি হাটের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি করে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কমিটিতে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। এ ছাড়া ডিএসসিসির নির্ধারিত গাইডলাইনের বাইরে কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবেন। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের পাশাপাশি প্রত্যেকটি হাটে একটি করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থাকবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে নগদ অর্থের লেনদেন ছাড়া ইনস্ট্যান্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতারা অর্থের লেনদেন করতে পারবেন। এজন্য পর্যাপ্ত ব্যাংক বুথের ব্যবস্থা থাকবে।ঢাকা দক্ষিণে অস্থায়ী ১০টি হাটের মধ্যে রয়েছে—খিলগাঁও রেলগেট মৈত্রী সংঘ ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, হাজারীবাগের ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি কলেজ সংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, বনশ্রীর মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব সংলগ্ন খালি জায়গা, কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা ও লালবাগে রহমতগঞ্জ ক্লাব সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা।

এদিকে কোরবানির পশুর বর্জ্য ও অস্থায়ী পশুর হাটের বর্জ্য দ্রুততম সময়ে সরিয়ে নিতে দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং হাটের ইজারাদারদের সঙ্গে মঙ্গলবার সভা করেন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। ইজারাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানিতে আগ্রহী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের মধ্য দিয়ে ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে তার দেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় রোববার (৯ জুন) এ আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাক্ষাৎ শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন,  ভুটান থেকে ভারতের ভূখণ্ড দিয়ে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি প্রয়োজন এবং বিষয়টি ইতিমধ্যে ভারতের নজরে আনা হয়েছে।

ড. হাছান জানান, সৌজন্য সাক্ষাতের সময় দুদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষীক সম্পর্কের সম্পূর্ণ বিষয়াদি আলোচনায় উঠে আসে। তিনি বলেন, ‘উভয় দেশ বিদ্যমান বহুমুখী সম্পর্ক বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।’

গাজা থেকে ইসরায়েলি চার জিম্মি উদ্ধার

0

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী মধ্য গাজা থেকে চারজন জিম্মিকে উদ্ধার করেছে। কয়েক সপ্তাহব্যাপী পরিকল্পনার পর অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে সেই অভিযানে শিশুসহ অনেক ফিলিস্তিনি মারা গেছে বলে জানা যাচ্ছে।

ইসরায়েলিদের জন্য এ অভিযান স্বস্তি নিয়ে আসলেও ফিলিস্তিনিদের জন্য সেটা আরো দুর্ভোগ তৈরি করেছে।

গাজার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ঘনবসতিপূর্ণ নুসিরাত ক্যাম্পে অভিযানে শিশুসহ ডজন-খানেক লোক মারা গিয়েছে।

“সীডস অব সামার” নামে অভিহিত এই অভিযান অস্বাভাবিকভাবে দিনের বেলায় পরিচালনা করা হয়েছিল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী এর মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে আরো বেশি চমকে দিয়েছে।

সকালের মাঝামাঝি সময়ে সাধারণত রাস্তাগুলো ব্যস্ত থাকে। লোকজন নিকটবর্তী দোকানে কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকে।

ওই এলাকায় ঢুকে অভিযান চালানো ইসরায়েলি স্পেশাল ফোর্সের জন্য শুধু যে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল তা নয়, বিশেষ করে বের হওয়াটা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

স্পেশাল ফোর্সের একজন কর্মকর্তা আহত হয়ে হাসপাতালে মারা গেছেন বলে ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে।

১৯৭৬ সালে উগান্ডা থেকে একশজন জিম্মিকে ইসরায়েলের উদ্ধারের কথা উল্লেখ করে আইডিএফ এর প্রধান মুখপাত্র রিয়ার এডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি বলেন, “ এটা এনটেবিতে যে রকম অভিযান ছিল সেরকমই একটা”।

তিনি বলেছেন, স্পেশাল কমান্ডোরা একইসাথে নুসিরাত ক্যাম্পের দুইটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়েছিল যেখানে জিম্মিদের রাখা হয়েছে।

একটা অ্যাপার্টমেন্টে ২৬ বছর বয়সী একজন জিম্মি নোয়া আরগামানি ছিল। অন্যটিতে ৪১ বছর বয়সী স্লোমি জিভ, ২৭ বছর বয়সী আন্দ্রে কজলভ এবং ২২ বছর বয়সী আলমগ মির জেন ছিল।

মি. হাগারি বলেন তারা খাঁচায় আটকা ছিল না কিন্তু রুমে তালাবদ্ধ ছিল যেখানে তাদের রক্ষীরা পাহারা দিচ্ছিল।

তিনি বলেন, ইসরায়েলি কমান্ডোরা সেখানে অভিযান চালিয়ে নিজেদের শরীর দিয়ে জিম্মিদের ঘিরে রাখে। বাইরে থাকা সামরিক গাড়িতে ওঠানোর আগে পর্যন্ত এভাবে তাদের নিরাপত্তা দেয়া হয়।

চলে যাওয়ার সময় তারা ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়েছিল, বলেন তিনি।

মি. হাগারি বলেন, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বিস্তারিতভাবে অভিযানের পরিকল্পনা করেছিল। এমনকি প্রশিক্ষণের জন্য অ্যাপার্টমেন্টের নমুনাও তৈরি করেছিল।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া মোবাইল ফোনের ভিডিওতে দেখা যায় ক্ষেপণাস্ত্রের বাঁশি এবং গোলাগুলির শব্দ শুনলে লোকজন আত্মরক্ষার জন্য নিচু হয়ে পড়ছে।

পরের ফুটেজে রাস্তায় মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।

এই অভিযানে স্পষ্টতই বড়সড় ফোর্স জড়িত ছিল। মধ্য গাজার দুইটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ৭০ টিরও বেশি মরদেহ তারা গণনা করেছেন।

নিহতের সংখ্যা একশরও কম বলে মি. হাগারি অনুমান করছেন। কিন্তু হামাসের মিডিয়া অফিস বলছে দুইশ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে।

হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত হতে পারেনি বিবিসি।

নুসিরাতে আশ্রয় নেয়া নোরা আবু খামিস কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বিবিসিকে বলেন, “ আমি আমার সন্তানের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ করেছি, আমার প্রিয় সন্তান”।

“আমার আরেক সন্তান জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এমনকি আমার স্বামী এবং শাশুড়ি আমার পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। এটা একটা গণহত্যা”।

দশ বছর বয়সী আরিজ আল জাদনেহ কাছের একটি হাসপাতালে আমাদের সাথে কথা বলেছেন। বিমান হামলা, ট্যাঙ্ক এবং গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

“ আমরা শ্বাস নিতে পারছিলাম না। আমার বোন রিমাজের মাথায় শার্পনেলের আঘাত লেগেছিল এবং আমার পাঁচ বছরের বোন ইয়ারাও শার্পনেলের আঘাতে আহত হয়েছে”।

নাগালে থাকা ম্যাচে ভারতের কাছে পরাস্ত পাকিস্তান

0

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ৬ রানে হারলো পাকিস্তান। ম্যাচের অনেকটা জুড়ে মনে হচ্ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে জিতে যাবে পাকিস্তান।

কিন্তু মাত্র ১১৯ রান হাতে নিয়ে এমন এক জয় তুলে নিলো ভারত। যা অনেকদিন মনে রাখবে ক্রিকেট সমর্থকরা। ম্যাচ শেষে টেলিভিশন ধারাভষ্যকাররা বলছিলেন ব্যাটারদের কঠিন দিনে বোলাররা বাঁচিয়ে দিলেন তাদের।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সহযোগী দল আমেরিকার বিপক্ষে হারের পর ভারতের বিপক্ষে এই হারে টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের আশা প্রায় শেষ। এই গ্রুপে কানাডাও এক ম্যাচে জয় পেয়েছে, কিন্তু পাকিস্তান ২ ম্যাচে ২ হার।

জনপ্রিয় ক্রিকেট উপস্থাপক হারশা ভোগলে ম্যাচের মাঝেই এক্স প্ল্যাটফর্মে পোস্ট দিয়েছেন, “এই একই দল ইউএসএর বিপক্ষে খেলেছে দেখে বিশ্বাস হয় না। পাকিস্তান যেন অননুমেয় ক্রিকেট খেলাটা শিল্পে পরিণত করে ফেলেছে”।

বিবিসির টেস্ট ম্যাচ স্পেশালের ধারাভাষ্যকার প্রকাশ ওয়াকাঙ্কার বলেন, “আরও একবার পাকিস্তান ম্যাচ হারার কায়দা খুঁজে বের করে ম্যাচ হারলো।”

নিউ ইয়র্কের নাসাউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ৩৪ হাজার ধারণক্ষমতার বেশিরভাগ জুড়েই ছিলেন ভারতীয় সমর্থকরা।

গোটা গ্যালারি নীল রঙে ছেয়ে ছিল, দেখে মনে হচ্ছিল এটা নিউ ইয়র্ক না, হায়দ্রাবাদ বা আহমেদাবাদ।

ম্যান অফ দ্য ম্যাচের স্মারক নেয়ার সময় ভারতের জয়ের নায়ক জসপ্রিত বুমরাহ বলছিলেন, “মনেই হয়নি আমরা ভারতের মাটিতে খেলছি না”।

ম্যাচের শুরু থেকে বৃষ্টি বারবার বিঘ্ন ঘটাচ্ছিল, বিলম্বে অনুষ্টিত টসে জিতে বাবর আজম কোনও দ্বিতীয় ভাবনা ছাড়াই বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন।

শুরুতে ব্যাট করে ভারত তিন ওভারের মাথায় দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার ভিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার উইকেট খোয়ায়।

এরপর পাকিস্তানের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিয়ে ভারতকে আর স্বস্তিতে রাখেনি। ছয় বল আগেই ১১৯ রানে ১০ উইকেট হারায় ভারত। জবাবে পাকিস্তান পুরো ২০ ওভার খেলে ১১৩ রান তোলে।

এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি দেখায় ভারতের ছিল ৬টি জয়, পাকিস্তানের ১ টি, এখন ভারত ৭, পাকিস্তান ১।

২০১৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের জার্মানি বনাম ব্রাজিল ম্যাচের পর থেকেই এই ৭-১ স্কোরলাইন ক্রীড়াজগতের এক বিখ্যাত স্কোরলাইন।

ইতালিতে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘মাফিয়ারা’ ঢুকে পড়ার অভিযোগ

0

ইতালিতে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘মাফিয়ারা’ ঢুকে পড়ার অভিযোগ করে সেখানে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ভিসা ‘কেনাবেচার’ কথা তুলে ধরেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদের এক বৈঠকে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর এসব বক্তব্য দেওয়ার কথা এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়েছে।

বিভিন্ন অঞ্চলে শ্রম ভিসায় ঢোকার ব্যক্তিদের তুলনায় কাজের চুক্তি সইয়ের পরিমাণ অতি নগন্য হওয়ার কথা তুলে ধরে জর্জা মেলোনি বলেন, “এর মানে কী? আমাদের ধারণা, কাজের জন্য বৈধ অভিবাসনের প্রক্রিয়াকে অবৈধ অভিবাসনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

“তার মানে হচ্ছে, সংগঠিত অপরাধীচক্র আবেদন প্রক্রিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছে এবং এক্ষেত্রে তারা ‘বৈধ পথে ঢোকার ডিক্রিকে’ ব্যবহার করে আইনি ও ঝুঁকিমুক্তভাবে এমন লোকদের ইতালিতে প্রবেশ করাচ্ছে, যারা এমনিতে প্রবেশ করতে পারত না।”

একক দেশ হিসাবে বাংলাদেশ থেকে অধিকাংশ ব্যক্তির কাজের ভিসায় ঢোকাকে ‘অপরাধীদের অনুপ্রবেশের’ প্রমাণ হিসাবে তুলে ধরেন মেলোনি। তিনি বলেন, “কূটনৈতিক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে সেখানে কাজের ভিসা বেচাকেনা করার কথা বলেছে।”

ভিসার কেনাবেচার ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত হাতবদল হওয়ার কথাও বলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি।

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ইতালিতে অবৈধ অভিবাসীদের হিসাবে বাংলাদেশিরা এক নম্বরে থাকার কথা তুলে ধরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এর মাধ্যমেও উৎস ও গন্তব্য দেশের অপরাধী সংগঠনের মধ্যে জোরালো সংযোগের বিষয় উঠে আসে।”

ইতালিতে কর্মী সংকট কাটাতে ও অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ বন্ধ করতে ২০২২ সালে বিপুল সংখ্যক কর্মী নেয়ার ঘোষণা দেয় ইতালি।

এর আওতায় ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন বছরে ধারাবাহিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের ৩৩টি দেশ থেকে প্রাঁয় পাচ লাখ কর্মী নেওয়ার প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের আবেদন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী আবেদন করেন বৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশের জন্য।

খুব দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করে দেশটিতে বৈধভাবে প্রবেশ করলেও দেশটিতে পৌঁছানোর পর নির্দিষ্ট মালিকের সঙ্গে কাজ না করে বা নির্দিষ্ট মেয়াদের পর থেকে গিয়ে অবৈধ হয়ে যাচ্ছেন এসব কর্মী। এরমধ্যে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ইতালির কাজের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে ‘ব্যাপক দুর্নীতির’ অভিযোগও আসছে।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনির দপ্তর পালাজ্জো কিজি থেকে নতুন এক নির্দেশনা দেওয়া হয়। মন্ত্রী পরিষদের সেক্রেটারি আলফ্রেদো মানতোভানো প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে এ নির্দেশনা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন।

সেখানে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশ বন্ধে সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। গতবছরের তুলনায় এবছর এই সময়ে ৬০% অভিবাসী কম প্রবেশ করেছে। এজন্য তিনি (জর্জা মেলোনি) উত্তর আফ্রিকার দেশ ও তিউনিসিয়া এবং লিবিয়াকে ধন্যবাদ জানান।

“তবে তিনি এবার আরো একটা সমস্যার কথা স্পষ্ট করে বলেছেন। বিভিন্ন দেশের কর্মীরা বৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে তারা অবৈধ হয়ে যাচ্ছে।”

২০২৩ সালে ১ লাখ ৩৬ হাজার কর্মী আসার কথা থাকলেও এরজন্য ২ লাখ ৮২ হাজার কর্মী আবেদন করেন। তবে শুধুমাত্র দেশটির “কামপানিয়া” অঞ্চল থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার আবেদন জমা পরে। আর ২০ হাজার আসে অন্য অঞ্চল পুয়িয়া থেকে। যেখানে কিনা পুয়িয়াতে ১২% কোম্পানি রয়েছে ইতালিয়ান নাগরিকদের আর সবচেয়ে বেশি আবেদন করা কামপানিয়ায় মাত্র ৬% কোম্পানির মালিক ইতালিয়ান।

এদিকে ২০২৩ সালে কামপানিয়ায় প্রবেশ করা কর্মীদের মধ্যে মাত্র ৩% কর্মী মালিকের সাথে কাজ করলেও ৯৭% থেকে যায় অবৈধ। যাদের মধ্যে বেশিরভাগ মৌসুমি কর্মী নির্দিষ্ট সময় শেষে নিজ দেশে ফিরে যাননি।

বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি। এ নিয়ে দেশটির তদন্তে মানবপাচার ও ভিসা কেনা-বেচার মত তথ্য পেয়েছে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ।

বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশি অভিবাসী ও কর্মীদের কথা তুলে ধরে বলা হয়েছে, দেশটিতে ইতালির ভিসা কেনা-বেচার তথ্য পেয়েছে ঢাকায় ইতালির দূতাবাস।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে ইতালির ভিসা ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার ইউরো করে কেনা-বেচা হয়। বাংলাদেশ ও ইতালিতে থাকা কিছু সংঘবদ্ধ চক্র এর সঙ্গে জড়িত, যারা নামে-বেনামে শুধুমাত্র কাগজে-কলমে কোম্পানি বানিয়ে মানবপাচার করছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ইতালিতে অবৈধ হয়ে পড়া অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা রয়েছে শীর্ষস্থানে।

এসব মানবপাচার ও ভিসা কেনা-বেচার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেশটির আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘এন্টি-মাফিয়া’ গ্রুপের প্রসিকিউটর জোভান্নি মেলিল্লোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরাতে নতুন কৌশল নিয়ে চিন্তাভাবনার কথা বলা হয়েছে।

ইতালির স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, কৃষি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।

সেখানে বলা হয়, দেশটিতে বর্তমানে দক্ষ কর্মীদের সংকট রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় অন্যান্য দেশ থেকে কর্মী নিতে তারা ভিন্ন পরিকল্পনার কথা ভাবছে, যেখানে মধ্যস্থতাকারী ছাড়া বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হবে।

এ বিষয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির এন্টি-মাফিয়া দলের প্রসিকিউটর বলেন, “মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশে আমরা ইতালিতে শ্রমিক প্রবেশের প্রতিটি ধাপ এখন থেকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করব। সব ধরনের মানবপাচারের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে কাজ করে যাচ্ছি। এখন থেকে প্রতিটি কোম্পানির সকল ধরনের তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আবারো পুনরায় আমরা যাচাই বাছাই করে শ্রমিক আনার অনুমতি দেব”।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, বৈধভাবে এবং অবৈধভাবে দুইভাবেই এবছর দেশটিতে বাংলাদেশি নাগরিকরা প্রবেশ করেছে সবচেয়ে বেশি। এক দিকে চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি। আবার গত দুই বছরে বৈধ প্রক্রিয়ায় ইতালিতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিরা শীর্ষে আছে।

২০২২ সালে ইউরোপের দেশটিতে প্রবেশ করা মোট বিদেশি কর্মীর মধ্যে ৪৫.৪ শতাংশ ছিল বাংলাদেশি। আর ২০২৩ সালে ৬১.১ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের এখন পর্যন্ত ৫১.১ শতাংশ বাংলাদেশি কর্মী সে দেশে প্রবেশ করেছে।

ইতিালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এদের বেশিরভাগই ইতালিতে সিজনাল ভিসায় এসে স্থায়ীভাবে থেকে যাচ্ছেন, নয়ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশে পালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশি মাহফুজুর রহমান বলেন, “ইতালির সরকার সবসময় বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ শ্রমিক আনার চেষ্টা করে। কিন্তু কিছু এজেন্সি এবং অসাধু দালাল বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে অদক্ষ শ্রমিকদের ইতালিতে এনে দিচ্ছে। তারা এখানে আসার পরে নির্দিষ্ট সময় শেষ হলেও দেশে ফিরে যাচ্ছে না। বরং তারা অন্যান্য দেশে পালিয়ে যাচ্ছে অথবা অবৈধ অভিবাসীদের মত এখানে বসবাস করছে। বিষয়গুলো ইতালির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।”

তিনি বলেন, “ভিসা বেচা এবং কেনা দুটি অবৈধ কাজ। তাই এসব কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ হাতে নিচ্ছেন।”

ইতালি সরকারের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি কর্মীদেরকে কেবল ‘নির্ভরযোগ্য এজেন্সির’ ওপর আস্থার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।

শনিবার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই পরামর্শ দেন। রোববার ঢাকায় ইতালি দূতাবাসের ওয়েবসাইটে তার ওই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, কর্মীদের নিশ্চিত হতে হবে তারা কোথায় কাজ করতে যাচ্ছে, কোন অবস্থায় কী ধরনের চাকরি এবং ইতালির কোন শহরে তারা যাচ্ছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতি পাঁচজনে একজন ভিসা আবেদনকারীর কাছ থেকে ‘অবৈধ কাগজপত্র’ পাওয়ার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, “ইতালিতে পাঠানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের বেশ বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার চর্চা রয়েছে। এই কাজ অবৈধ, যা ইতালি ও বাংলাদেশ দুই জায়গাতেই হচ্ছে।”