বিভিন্ন সংগঠন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের সংবাদ প্রসঙ্গে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ২৭ আগস্ট প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন,
“অতি সম্প্রতি বিভিন্ন সংগঠন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে কিছু লোকের যোগদানের খবর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন। যেকোনো ব্যক্তি জামায়াতে ইসলামীর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে একমত পোষণ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করতে পারেন।
বর্তমানে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর আমরা এক বিশেষ পরিস্থিতি অতিক্রম করছি। জামায়াতে ইসলামী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন ও আহত হয়েছেন তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের শোকে অংশগ্রহণ করার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি বন্যার্তদের সহযোগিতায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে আমাদের প্রধান কাজ দেশ ও জাতির সংস্কারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা।
এমন পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীর মহানগরী, জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠন থেকে কেউ যোগদান করতে চাইলে ঊর্ধ্বতন সংগঠনের অনুমতি নিতে হবে। ইতোমধ্যেই যারা যোগদান করেছেন তাদের যোগদানের কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি শহরে ইসরায়েলি অভিযান ও হামলায় কমপক্ষে ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের একজন মুখপাত্র আজ বুধবার (২৮ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর এএফপির।
রেড ক্রিসেন্টের মুখপাত্র আহমেদ জিবরিল জানান, ইসরায়েলি হামলায় জেনিন শহরে দুই ফিলিস্তিনি, এর পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামে চারজন এবং তুবাস শহরের শরণার্থী শিবিরে আরও চারজন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১৫ জন আহত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আজ বুধবার ভোরে জানায়, পশ্চিম তীরের উত্তরে জেনিন ও তুলকার্ম শহরে সন্ত্রাস রুখতে এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। ইসরায়েল পশ্চিম তীরে বিমান হামলা চালানোর দুদিন পরে এই হামলা চালানো হলো। ওই বিমান হামলায় পাঁচজন নিহতের খবর জানিয়েছিল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ চলার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও হামলা করছে ইসরায়েল। গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সৈন্যদের হামলায় সেখানে ৬৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের হামলায় ১৯ জন ইসরায়েলি নাগরিকও নিহত হয়েছে।
অকটেন–পেট্রোলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তবর্তীকালীন সরকার। আগামী মাস থেকেই ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম কমবে। তবে সবচেয়ে বেশি দাম কমবে পেট্রোল ও অকটেনের।
জ্বালানি বিভাগ ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
দেশে গত জুন থকে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি হচ্ছে ১০৬ টাকা ৭৫ পয়সা দরে। অন্যদিকে অকটেন ১৩১ টাকা ও পেট্রোল প্রতি লিটার ১২৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিপিসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার কারণে দেশের বাজারেও দাম কমানো হবে। পাশাপাশি বর্তমান ফর্মুলা অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের দামের মধ্যে বিপিসির জন্য যতটা মুনাফা রয়েছে—সেটিও কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে স্বাভাবিক নিয়মেই জ্বালানি তেলের দাম তখন কমে আসবে।
মুনাফা কমানোর ব্যাপারে বিপিসি বলেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতেই মুনাফা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বিপিসি সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের মধ্যে অকটেন ও পেট্রোলের দাম বেশি কমবে। প্রতি লিটার অকটেন ও পেট্রোলের দাম ৮ থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। আর ডিজেল ও কোরোসিনের দাম কমতে পারে ১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৭৫ পয়সা পর্যন্ত।
গত মার্চ মাসে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত অনুযায়ী এ পদ্ধতি চালু করা হয়।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত ডিজেল ৯১ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার ও পরিশোধিত অকটেন ৮৮ ডলারে বিক্রি হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিনকে দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। ব্যবসায়িক লেনদেন ঠিক রাখার জন্য তাই মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা নিয়মিত পাঠাচ্ছেন বৈদেশিক মুদ্রা। লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার ২৮ আগস্ট ২০২৪ বিনিময় হার তুলে ধরা হলো-
বৈদেশিক মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা
ইউএস ডলার ১২০ টাকা ৫০ পয়সা
ইউরোপীয় ইউরো ১৩৪ টাকা ৭০ পয়সা
ব্রিটেনের পাউন্ড ১৫৭ টাকা ৫০ পয়সা
ভারতীয় রুপি ১ টাকা ৪২ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ২৭ টাকা ৬০ পয়সা
সিঙ্গাপুরের ডলার ৯২ টাকা ৪০ পয়সা
সৌদি রিয়াল ৩১ টাকা ৯০ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার ৮৯ টাকা ৫৫ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮২ টাকা ২০ পয়সা
কুয়েতি দিনার ৩৯৬ টাকা ৭০ পয়সা
** যেকোনো সময় মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা যায়। হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় তার খেলতে কেনো বাধা নেই বলে জানিয়েছে বিসিবি। দ্বিতীয় টেস্টে খেলার অনুমতি পেলেও সহসাই দেশে ফেরা হচ্ছে না ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের।
গতকাল মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, দ্বিতীয় টেস্ট শেষে দলের সঙ্গে ফেরা হচ্ছে না সাকিবের। প্রায় ৯ বছর পর ইংলিশ কাউন্টি খেলতে তিনি ইংল্যান্ডে যাবেন। তাকে সারে ক্রিকেট দলের হয়ে মাঠ মাতাতে দেখা যাবে। সারের হয়ে একটি চারদিনের ম্যাচ খেলবেন সাকিব। এই ম্যাচ খেলতে সাকিবকে ছাড়পত্র দিয়েছে বিসিবি। আগামী ৫ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাকিবকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সমারসেটের বিপক্ষে সারের হয়ে মাঠে নামবেন সাকিব। জানা গেছে, সেই ম্যাচ শেষ করে ভারতের বিমান ধরবেন তিনি। সেখানে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে শান্তরা। সবমিলিয়ে লম্বা সময়ের জন্য দেশের বাইরে থাকতে হবে সাকিবকে।
আগামী ১৯ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর ভারতের চেন্নাইয়ের এম চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম টেস্ট। যেটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভূক্ত। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর কানপুরে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি মাঠে গড়াবে। এই সফরে বাংলাদেশ ৩টি টি-টোয়েন্টিও খেলবে। আর আগামী ৬ অক্টোবর শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ, যা শেষ হবে ১২ অক্টোবর।
উল্লেখ্য, ২০০৯-১০ সালে প্রথমবারের মতো ইংলিশ কাউন্টিতে খেলতে গিয়েছিলেন সাকিব। সেবার ওস্টারশায়ারের হয়ে ৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। এছাড়া ২০১৩ সালে ন্যাটওয়েস্ট টি-২০ ব্ল্যাস্টে খেলেন লেস্টারশায়ারের হয়ে। দীর্ঘ এক দশক পর ফের কাউন্টিতে নাম লেখালেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। কিন্তু দলটি তাদের অর্জন ধরে রাখতে পারেনি। তিনি বলেন, জনগণ আওয়ামী লীগকে কীভাবে দেখে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আওয়ামী লীগ নিজেদের কীভাবে দেখে। আজ মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (আইএমসিএবি)–এর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, ‘সাড়ে ১৫ বছর দেশ শাসন করে লক্ষ্মণ সেনের মতো দেশ ত্যাগ করা ওনার জন্য মানানসই হয়নি। জামায়াত নেতারা কখনও দেশ ত্যাগ করেননি। তাঁরা মোকাবিলা করেছেন। আমাদের নেতারা জেল-জুলুম বুকে ধারণ করে দেশেই ছিলেন। কখনও দেশ ত্যাগ করেননি।’
এই মুহূর্তে জামায়াত কী করছে, এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেন, বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। একজন প্রধান বিচারপতিকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। দেশে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনব্যবস্থা বলতে কিছু নেই। পুলিশ বাহিনী জনগণের বন্ধু না হয়ে শত্রুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে যৌক্তিক সময় দিতে হবে। দেশকে সংস্কার করতে হবে। এই মুহূর্তে জামায়াতের প্রধান কাজ হলো ছাত্র-জনতার বিপ্লবে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানো।
আইএমসিএবির সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠান নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, মতবিনিময় অনুষ্ঠানে দলের আমির বলেছেন, তাঁরা চান দেশে দ্রুত শান্তিশৃঙ্খলা ফিরে আসুক। দেশের সংবিধান, প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সংস্কার হওয়া দরকার। দল বা ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন করা যাবে না। তাঁরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। জামায়াত দল হিসেবে সবার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
এ প্রসঙ্গে তাঁর দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘দেশের কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে আমাদের অপবাদ দেওয়া হতো। এমনকি, গাইবান্ধায় যখন একজন সংসদ সদস্য নিহত হলেন, তখন সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী এই হত্যার জন্য জামায়াতকে দায়ী করলেন। পরে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, জামায়াত সব সময় গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করেছে। জামায়াতের দুজন মন্ত্রী সরকার পরিচালনায় ছিলেন। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কখনো তাঁদের স্পর্শ করেনি। মানুষের দুঃখ-মসিবতে পাশে দাঁড়িয়েছে। জামায়াত কখনো ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত ছিল না, এখনো নেই। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জন্য দায়ী করে ১ আগস্ট তৎকালীন সরকার অন্যায়ভাবে নির্বাহী আদেশবলে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, যা দল হিসেবে জামায়াতের ওপর বড় জুলুম।
জামায়াতের আমির বলেন, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর জামায়াতে ইসলামী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় পাহারাদারের ভূমিকায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর, সহায় সম্পদ, ধর্মীয় উপাসনালয় পাহারা দিয়েছি, যাতে কেউ ভাঙচুর করতে না পারে। আমরা বিশ্বাস করি সকল মানুষ সমান। এখানে সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘুর কোনো প্রশ্ন নেই। আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলছি, যদি কোথাও প্রমাণিত হয় যে আমাদের একজন কর্মী সন্ত্রাস করেছে, তাহলে আমরা জাতির কাছে ক্ষমা চাইব এবং নিজেরা আইনের হাতে সোপর্দ করব।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার মান্টিটস্কি বলেছেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাশিয়া বাংলাদেশের পাশে থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত মান্টিটস্কি রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি অনুসন্ধান এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সহায়তা বাড়ানোসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষযাদি আলোচনা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাইন অপসারণের কথা স্মরণ করেন। তিনি রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্যান্য পণ্যও আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানান। বর্তমানে রাশিয়ায় বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৯০ শতাংশ তৈরি পোশাক।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে হবে।’
বাংলাদেশের খাদ্যশস্য এবং সারের বড় একটি অংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করা হয় উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। গত বছর রাশিয়া থেকে বাংলাদেশ ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন টনেরও বেশি গম আমদানি করেছে এবং চলতি বছর আমদানির পরিমাণ ইতোমধ্যে ২ মিলিয়ন টন অতিক্রম করেছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত জানান, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি কোম্পানি গ্যাজপ্রম ভোলা দ্বীপে এবং দেশের অভ্যন্তরে আরও পাঁচটি গ্যাস কূপ অনুসন্ধান করতে আগ্রহী। তিনি আরও জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি আগামী বছর চালু হতে পারে। এ ছাড়া রাশিয়া বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিতে আগ্রহী।
প্রধান উপদেষ্টা অর্থনৈতিক ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএমসিএবি)-এর সাথে জামায়াতে ইসলামীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “জামায়াত কখনো ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত ছিলো না, এখনো নেই। আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলছি, যদি কোথাও প্রমাণিত হয় যে, আমাদের একজন কর্মী সন্ত্রাস করেছে, তা হলে আমরা জাতির কাছে ক্ষমা চাবো এবং নিজেরা নিজেদেরকে আইনের হাতে সোপর্দ করবো।”
২৭ আগস্ট ২০২৪ মঙ্গলবার, মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএমসিএবি)-এর সাথে এক মতবিনিময় সভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
এ মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ। ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএমসিএবি)-এর প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন বাসুদেব ধর, প্রদীপ্ত নারায়ণ, ফরিদ হোসেন, রাজিব খান, কুদ্দুস আফ্রাদ, মাসুম বিল্লাহ, মিজানুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, আবু আলী, আমিনুল হক ভূইয়া, সিয়াম সরোয়ার জামিল, কাউসার আযম, তারিকুল ইসলাম, রাজীব খান, শাহীন পারভেজ, জাকির হোসেন, মোঃ মনির হোসেন প্রমুখ।
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত সর্বদাই গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করেছে। জামায়াতের দু’জন মন্ত্রী সরকার পরিচালনায় ছিলেন। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কখনো তাদের স্পর্শ করেনি। জামায়াত দেশ ও জাতির জন্য কাজ করেছে। দুঃখ, মুসিবতে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। জামায়াত কখনো ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত ছিলো না। আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলছি যদি কোথাও প্রমাণিত হয় আমাদের একজন কর্মী সন্ত্রাস করেছে তা হলে আমরা জাতির কাছে ক্ষমা চাবো এবং নিজেরা নিজেদেরকে আইনের হাতে সোপর্দ করবো। দেশের কোথাও কোন ঘটনা ঘটলে আমাদেরকে অপবাদ দেয়া হতো। এমনকি গাইবান্ধায় যখন একজন এমপি নিহত হলেন, তখন সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী হত্যার জন্য জামায়াতকে দায়ী করলেন। পরবর্তীতে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদেরকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জন্য দায়ী করে সরকার ১ আগস্ট অন্যায়ভাবে নির্বাহী আদেশবলে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, যা দল হিসেবে আমাদের উপর সবচাইতে বড় জুলুম। আমরা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর, সহায় সম্পদ, ধর্মীয় উপাসনালয় পাহাড়া দিয়েছি যাতে কেউ ভাঙচুর করতে না পারে। আমরা বিশ্বাস করি সকল মানুষ সমান। এখানে সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘুর কোন প্রশ্ন নেই। নাগরিক হিসেবে সকলেই সমান অধিকার পাবেন এটাই স্বাভাবিক। আমরা চাই দেশে দ্রুত শান্তিশৃঙ্খলা ফিরে আসুক। দেশের সংবিধান, প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সংস্কার হওয়া দরকার। দল বা ধর্মের ভিত্তিতে কোন বিভাজন করা যাবে না। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা দল হিসেবে সকলের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা অসত্য বা বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে কাউকে হয়রানি করা পছন্দ করি না। জামায়াত কখনো কোন হয়রানিমূলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না, এখনো নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে আমীরে জামায়াত বলেন, বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। একজন প্রধান বিচারপতিকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। দেশে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন সিষ্টেম বলতে কিছু নেই। পুলিশ বাহিনী জনগণের বন্ধু না হয়ে শত্রুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের জন্য যৌক্তিক সময় দিতে হবে। দেশকে সংস্কার করতে হবে। এই মুহূর্তে জামায়াতের প্রধান কাজ হলো ছাত্র-জনতার বিপ্লবে নিহত, আহত ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো। কিন্তু তারা তাদের অর্জন ধরে রাখতে পারেনি। জনগণ আওয়ামী লীগকে কিভাবে দেখে, তার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো আওয়ামী লীগ নিজেদেরকে কিভাবে দেখে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভারতে অবস্থান সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে আমীরে জামায়াত বলেন, সাড়ে পনেরো বছর দেশ শাসন করে লক্ষণ সেনের মত দেশ ত্যাগ করা উনার জন্য মানানসই হয় নাই। জামায়াত নেতারা কখনো দেশ ত্যাগ করেননি। তারা মোকাবেলা করেছেন। আমাদের নেতৃবৃন্দ জেল-জুলুম বুকে ধারণ করে দেশেই ছিলেন। কখনো দেশ ত্যাগ করেননি।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত তেলিগ্রাম, স্কুল মাঠে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সকল শহীদদের জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ’সময় বক্তব্য রাখেন, এবং মোনাজাত করেন, “প্রিন্সিপাল ইকবাল” (সেক্রেটারি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, পাবনা জেলা শাখা)।