Monday, April 27, 2026
Homeজাতীয়পাবনায় আওয়ামী লীগ নেত্রী মহিমা বিশ্বাসের ত্রাসের রাজত্ব: চাঁদাবাজি ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ...

পাবনায় আওয়ামী লীগ নেত্রী মহিমা বিশ্বাসের ত্রাসের রাজত্ব: চাঁদাবাজি ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা |

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে জিম্মি এবং নিজস্ব বাহিনী দিয়ে ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে মহিমা বিশ্বাস নামের এক নারী নেত্রীর বিরুদ্ধে। পাবনা সদর থানার শালগাড়িয়া এলাকার মৃত আব্দুর রউফ মালিথার মেয়ে মহিমা বিশ্বাসের অত্যাচারে এখন অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা।

“সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর বাসভবনে”

রাজনৈতিক প্রভাব ও উত্থান

অনুসন্ধানে জানা যায়, পাবনা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী হেলেনা এবং সাবেক সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াসমিন জলির হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মহিমা বিশ্বাস। অল্প সময়ের মধ্যেই সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুসহ জেলার শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। এই রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এলাকায় নিজস্ব এক বিশাল বাহিনী গড়ে তোলেন।

“পাবনা জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি রেজাউল রহিম লাল এর আলোচনা সভায় মহিমা বিশ্বাস”

শালগাড়িয়ায় অঘোষিত সম্রাজ্ঞী

পাবনা টিবি হাসপাতালের পাশে নিজ বাসাকে কেন্দ্র করেই চলত মহিমা বিশ্বাসের সব অপকর্মের পরিকল্পনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, শালগাড়িয়া এলাকায় জমি দখল থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চাঁদা দাবি ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। তার নিজস্ব বাহিনীর ভয়ে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খোলার সাহস পায়নি। এমনকি রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে স্থানীয় থানায় গিয়েও কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সুযোগ পেত না।

“পাবনা-৪ আসনের এম পি নুরুজ্জামান বিশ্বাস এর সাথে মহিমা বিশ্বাস”

নিজ পরিবারেও নেই নিস্তার

মহিমা বিশ্বাসের প্রতিহিংসার হাত থেকে রক্ষা পায়নি তার নিজ পরিবারের সদস্যরাও। অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক সম্পত্তি এবং ব্যক্তিগত আধিপত্য বজায় রাখতে তিনি নিজ আত্মীয়-স্বজনদের ওপরও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছেন। তার ‘হিংস্র থাবা’র ভয়ে অনেক স্বজন এখন এলাকাছাড়া।

“পাবনা জেলা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক আলী মুর্তজা বিশ্বাস সনি এর সাথে মহিমা বিশ্বাস”

ভুক্তভোগীদের দাবি

দীর্ঘ দিন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে। এলাকাবাসীর দাবি, অনতিবিলম্বে মহিমা বিশ্বাসের সকল অপকর্মের সুষ্ঠু তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক এবং শালগাড়িয়া এলাকাসহ পাবনাবাসীকে তার বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।

“পাবনা জেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আ স ম আব্দুর রহিম পাকন এর সাথে মহিমা বিশ্বাস”

এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মহিমা বিশ্বাসের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ থাকায় এবং বাড়িতে গিয়েও তাকে না পাওয়ায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments